যুবদলের নাম ভাঙিয়ে অবৈধ কারবার: রাতারাতি কোটিপতি মরিচ্যার সোহেল!
Wednesday, August 19, 2026
বিশেষ প্রতিনিধি ::
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার হলদিয়া পালং ইউনিয়নের মরিচ্যা এলাকায় জাতীয়তাবাদী যুবদলের নাম ভাঙিয়ে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে রাতারাতি কোটিপতি বনে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এবং দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অবৈধ কারবার, চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন মরিচ্যা এলাকার সোহেল রানা। ৫ আগস্ট পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাঁর এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের মাত্রা আরও তীব্র রূপ নিয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
স্থানীয় বাসিন্দা ও তৃণমূল রাজনৈতিক কর্মীদের অভিযোগ, সোহেল রানা দীর্ঘদিন ধরে মরিচ্যা ও আশপাশের এলাকায় যুবদলের পরিচয় ব্যবহার করে একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করেছেন। এলাকার বালুমহাল নিয়ন্ত্রণ, পাহাড় কাটা, জমি দখল এবং বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে মাসোহারা আদায়ের পেছনে তাঁর সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে। দলীয় প্রভাব খাটানোর কারণে ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ তাঁর বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পান না।
অনুসন্ধানে জানা যায়, কয়েক বছর আগেও সাধারণ জীবনযাপন করা সোহেল রানা মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে বিপুল পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির মালিক হয়েছেন। মরিচ্যা বাজারসহ কৌশলগত বিভিন্ন এলাকায় তাঁর নামে বেনামে জমি কেনা, দামী যানবাহন এবং একাধিক অবৈধ সিন্ডিকেটে বিনিয়োগের তথ্য পাওয়া গেছে। কোনো দৃশ্যমান বৈধ আয়ের উৎস না থাকা সত্ত্বেও তাঁর এই ‘আলাদিনের চেরাগ’ পাওয়ার মতো উত্থান নিয়ে এলাকায় চরম চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সোহেল রানার এই বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে খোদ হলদিয়া পালং ইউনিয়ন ও উখিয়া উপজেলা যুবদলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক যুবদল নেতা জানান, "দলের দুঃসময়ে যাদের কোনো ভূমিকা ছিল না, তারা এখন দলের নাম ব্যবহার করে কোটি কোটি টাকা কামাচ্ছে। এই ধরনের সুবিধাবাদীদের কারণে দলের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। "তারা অবিলম্বে এই কথিত নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এদিকে যুবদল নেতা মোহাম্মদ সোহেল রানার বিরুদ্ধে আনিত সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সোহেল রানা। তিনি বলেন, "আমার বিরুদ্ধে যে সমস্ত অভিযোগ আনা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একটি বিশেষ মহল রাজনৈতিকভাবে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন এবং আমার ব্যবসায়িক সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে এসব মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে।"
এ বিষয়ে কক্সবাজার জেলা যুবদলের সভাপতি এডভোকেট সৈয়দ আহমদ উজ্জ্বল জানান, উখিয়া উপজেলার কোথাও দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে অবৈধ কারবার, চাঁদাবাজি বা পাহাড় কাটার সুযোগ নেই। এ ধরনের নির্দিষ্ট কোনো লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।



