আহসান সুমন, কক্সবাজার ::
কক্সবাজারে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্যদিয়ে বিশ্ব হাত ধোয়ার দিবস-২০২৬ উদযাপন হয়েছে। "হাত ধোয়ার নায়ক হোন" এই প্রতিপাদ্যে সকলের মাঝে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার যৌথ উদ্যোগে দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় উদযাপন করে।
এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ১০টায় পর্যটন হোটেল শৈবাল মিলনায়তনে শোভাযাত্রা শেষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
কক্সবাজার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ নাসরুল্লাহ'র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথিসহ সকলে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং বিদ্যালয় ও কমিউনিটি পর্যায়ে এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোধ করেন।
ইউনিসেফসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ওয়াশ (পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি) সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শাহিদুল আলম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. শাহিদুল আলম বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে পরিবার ও সমাজে স্বাস্থ্যসম্মত আচরণ ছড়িয়ে দিতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে মো. নসরুল্লাহ বলেন, নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি চর্চা একে অপরের পরিপূরক। হাত ধোয়ার অভ্যাসকে দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কক্সবাজার সদর সার্কেল) মো. মাহমুদুল হাসান, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সহকারী সার্জন ডা. আসিফ চৌধুরী, ইউনিসেফ কক্সবাজার ফিল্ড অফিসের প্রধান দীপিকা শর্মা, ইউনিসেফের ওয়াশ ফোকাল রাফায়েল নওরোজ, অক্সফামের ওয়াশ লিড মো. মনিরুজ্জামান এবং হাইসাওয়ার প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. এনামুল হক মন্ডল।
ইউনিসেফের প্রতিনিধি দীপিকা শর্মা শিশুদের মধ্যে স্বাস্থ্যসম্মত আচরণ গড়ে তোলা এবং বিদ্যালয়ভিত্তিক হাত ধোয়ার চর্চা জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেন। রাফায়েল হাত ধোয়ার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানুষের আচরণগত পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
ডা. আসিফ চৌধুরী বলেন, সঠিক সময়ে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার মাধ্যমে বিভিন্ন সংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমানো যায়। অন্যদিকে, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মাহমুদুল হাসান।
অক্সফামের মো. মনিরুজ্জামান ও হাইসাওয়ার মো. এনামুল হক মন্ডল ওয়াশ কার্যক্রমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ ও বিদ্যালয় এবং কমিউনিটি পর্যায়ে নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতে বেলুন উড়িয়ে দিবসটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন অতিথিরা। পরে শিক্ষার্থী ও অতিথিদের অংশগ্রহণে সাবান দিয়ে সঠিক নিয়মে হাত ধোয়ার ব্যবহারিক প্রদর্শনী হয়। পরে হাত ধোয়া নিয়ে সচেতনতামূলক গান পরিবেশন ও কেক কাটা হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে নির্বাচিত ১০ জন শিক্ষার্থী হাত ধোয়ার গুরুত্ব ও স্বাস্থ্য সচেতনতা নিয়ে ক্তব্য দেন।
আয়োজকেরা জানায়, দিবসটির অন্যতম উদ্যোগ ছিল বিদ্যালয়ভিত্তিক ‘হাত ধোয়ার নায়ক হও’ নির্বাচন করা। এর মাধ্যমে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা সহপাঠীদের হাত ধোয়ার বিষয়ে সচেতন করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসম্মত আচরণ চর্চা অব্যাহত রাখতে ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ৮০ জন শিক্ষার্থী ও ২০ জন শিক্ষক-শিক্ষিকাসহ সরকারি-বেসরকারি সংস্থার প্রায় ১০০ জন প্রতিনিধি অংশ নেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইউনিসেফের ওয়াশ অফিসার সাজেদা বেগম।
প্রসঙ্গত, বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস প্রতিবছর ১৫ অক্টোবর পালিত হয়। এ বছর কক্সবাজারে দিবসটি উপলক্ষে ২৯ অক্টোবর এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।



