আজ বিশ্ব ‘বয়ফ্রেন্ড’ দিবস

প্রেমের সম্পর্কে ভালোবাসা প্রকাশের জন্য বিশেষ কোনো দিনের প্রয়োজন হয় না। তবু প্রিয় মানুষকে আলাদা করে সময় দেওয়া কিংবা সম্পর্কের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর উপলক্ষ হিসেবে বিভিন্ন অনানুষ্ঠানিক দিবসের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। তেমনই একটি দিন ‘ন্যাশনাল বয়ফ্রেন্ড ডে’। প্রতিবছর ৩ অক্টোবর দিনটি পালিত হয়। ২০২৬ সালে দিনটি পড়েছে শনিবার। মূলত প্রেমিক বা বয়ফ্রেন্ডকে ঘিরেই এই দিবসের আয়োজন। এদিন অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সঙ্গীর সঙ্গে তোলা ছবি প্রকাশ করেন, ভালোবাসার বার্তা লেখেন কিংবা একসঙ্গে সময় কাটানোর পরিকল্পনা করেন। কেউ কেউ ছোটখাটো উপহার বা পছন্দের খাবার দিয়ে সঙ্গীকে বিশেষ অনুভূতি দেওয়ার চেষ্টা করেন। #কীভাবে শুরু হলো ‘ন্যাশনাল বয়ফ্রেন্ড ডে’র নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠাতা বা শুরুর ঘটনা নিশ্চিতভাবে জানা যায় না। বিভিন্ন সূত্রে ২০১২ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের উদযাপন শুরু হওয়ার কথা বলা হলেও এর কোনো একক ও যাচাই করা উৎস পাওয়া যায়নি। ফলে দিনটির ইতিহাস এখনো অনেকটাই অনিশ্চিত। তবে ২০১০-এর দশকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দিনটি নিয়ে পোস্ট ও হ্যাশট্যাগ ব্যবহারের প্রবণতা বাড়তে থাকে। পরে ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম ও টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্মে ছবি, ভিডিও, শুভেচ্ছা ও নানা ধরনের পোস্টের মাধ্যমে দিবসটি আরও পরিচিতি পায়। #কেন ৩ অক্টোবর ৩ অক্টোবর তারিখটি কেন ‘বয়ফ্রেন্ড ডে’ হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল, তারও নির্ভরযোগ্য কোনো নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা নেই। অনলাইনে এ নিয়ে বিভিন্ন ধারণা থাকলেও সেগুলোর কোনোটিই নিশ্চিতভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়। তবে ২০০৪ সালের জনপ্রিয় সিনেমা Mean Girls-এর একটি দৃশ্যে ৩ অক্টোবর তারিখটির উল্লেখ রয়েছে। পরবর্তী সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারিখটি নিয়ে আলাদা একটি ট্রেন্ড তৈরি হয়। যদিও ‘ন্যাশনাল বয়ফ্রেন্ড ডে’ ঠিক এই কারণেই ৩ অক্টোবর শুরু হয়েছিল—এমন কোনো প্রমাণ নেই। #কীভাবে উদযাপন করা যায় এই দিনের জন্য নির্দিষ্ট কোনো নিয়ম নেই। যার যার মতো করে প্রিয় মানুষটির প্রতি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করাই এর মূল বিষয়। সঙ্গীর সঙ্গে সময় কাটানো, তার পছন্দের কোনো খাবার তৈরি করা, ছোট্ট উপহার দেওয়া কিংবা একসঙ্গে কোথাও ঘুরতে যাওয়া হতে পারে দিনের আয়োজন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুজনের ছবি দিয়ে ভালোবাসার বার্তা দেওয়াও হতে পারে উদযাপনের অংশ। অনেকে আবার দিনটিকে শুধু অনলাইনে ছবি পোস্ট করার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেন না। ব্যস্ততার মধ্যে একে অপরের সঙ্গে কথা বলা, পুরোনো স্মৃতি মনে করা কিংবা ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করাও হয়ে উঠতে পারে দিনের বিশেষ আয়োজন। #শুধু উপহার নয়, গুরুত্ব ভালোবাসার প্রকাশে ‘ন্যাশনাল বয়ফ্রেন্ড ডে’ কোনো সরকারি ছুটি বা আনুষ্ঠানিক জাতীয় দিবস নয়। এটি মূলত একটি অনানুষ্ঠানিক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমনির্ভর উদযাপন। তাই এদিন বড় আয়োজন বা দামি উপহারের প্রয়োজন নেই। একটি আন্তরিক বার্তা, প্রিয় মানুষের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানো কিংবা তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ—ছোট্ট এসব উদ্যোগই দিনটিকে বিশেষ করে তুলতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি ট্রেন্ড হিসেবে শুরু হলেও প্রতি বছর ৩ অক্টোবর ঘিরে বয়ফ্রেন্ড ডে নিয়ে মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। তাই সম্পর্কের মানুষটিকে একটু আলাদা করে সময় দেওয়ার উপলক্ষ হিসেবে দিনটি উদযাপন করতে পারেন। বিশেষ কোনো দিনের চেয়ে আন্তরিকতা ও পারস্পরিক যত্নই যে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, সেই বার্তাই হতে পারে দিনটির সবচেয়ে সুন্দর উদযাপন