মহেশখালীতে প্রস্তাবিত জমি অধিগ্রহন সম্পন্ন হলে পেশা হারাবে দেড় লাখ মানুষ
Sunday, April 19, 2026
মহেশখালী অর্থনৈতিক অঞ্চল-১ এর জন্য অধিগ্রহন হচ্ছ্যে ৮২৬ একর। অর্থনৈতিক অঞ্চল-২ এর জন্য ৬৭০ একর। মহেশখালী অর্থনৈতিক অঞ্চল-৩ এর জন্য ৩,০৫৫.৪৬ একর ও কোহেলিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চল এর জন্য ১,০০০ একর।
মহেশখালীতে সবকটি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে জেলায় লবণ চাষের জমি অনেক কমে আসবে। পেশা হারাবে দেড় লাখ মানুষ। স্থানীয়দের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে শিক্ষার জন্য গড়ে তোলা হচ্ছে একাধিক টেকনিক্যাল কলেজ। ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ প্রকল্প ও গভীর সমুদ্রবন্দরের জন্য প্রথম ধাপের জমি অধিগ্রহন করা হয়েছে। অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ সব প্রকল্পের জন্য প্রস্তাবিত জমি অধিগ্রহন করা হলে অধিগ্রহনকৃত জমির পরিমান দাড়াবে ৩৪ হাজার ১৮১ একর।
সুত্র মতে, মহেশখালীতে মোট জমির পরিমান প্রায় ৮৬ হাজার একর। প্রস্তাবিত সবকটি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে মহেশখালীতে লবণ চাষের জমি কমে আসবে প্রায় ১৭ হাজার একর। যা চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলায় লবণ চাষের মোট জমির ২৫ ভাগ। এছাড়া কৃষি জমি কমে আসবে প্রায় ১০ হাজার একর।Beaches & Islands
ভূমি অফিস সুত্রে জানা যায়, মহেশখালীতে খাস ব্যতিত লবণ চাষের জমি আছে প্রায় ২০ হাজার একর। কৃষি চাষ যোগ্য খাস ও পাহাড়ি জমি ব্যতিত আছে প্রায় সাড়ে ১৭ হাজার একর। সব জমি অধিগ্রহন হলে পেশা হারাবে প্রায় দেগ লাখ মানুষ। জীবন জীবিকার জন্য এসব লোকদের বেছে নিতে হবে ভিন্ন পেশা।
জানা যায়, মহেশখালী উপজেলায় কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র, গভীর সমুদ্রবন্দর, এসপিএম প্রকল্প ও এলএনজি টার্মিনাল ছাড়াও ৪টি প্রধান অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের পরিকল্পনা ও কার্যক্রম চলমান রয়েছে । এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছে বেজা।
মহেশখালী অর্থনৈতিক অঞ্চল-১ এর জন্য অধিগ্রহন হচ্ছ্যে ৮২৬ একর। অর্থনৈতিক অঞ্চল-২ এর জন্য ৬৭০ একর। মহেশখালী অর্থনৈতিক অঞ্চল-৩ এর জন্য ৩,০৫৫.৪৬ একর ও কোহেলিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চল এর জন্য ১,০০০ একর। মূলত গভীর সমুদ্রবন্দর, এলএনজি টার্মিনাল ও কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রেকে কেন্দ্র করে এই অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে। এতে মানুষের পেশার পরিবর্তন হবে তাই স্থানীয় লোকজন যাতে এসব প্রকল্পে অন্য পেশায় নিয়োজিত হতে পারে এমন পরিকল্পনা নিয়েই স্থাপিত হচ্ছে একাধীক টেকনিক্যাল কলেজ।
এদিকে মানুষের পেশার পরিবর্তন হবে এ বিষয়ে মানুষের মাঝে এখনো সচেতনতা আসেনি। ধলঘাটা ইউনিয়ন সকল মানুষ লবণ ও চিংড়ি চাষের উপর নির্ভরশীল। জমি অধিগ্রহন হলে জমি আর অবশিষ্ট থাকবে না। ফলে চলে যেতে হবে অন্য পেশায়।
স্থানীয় সাবেক মেম্বার আবদুল আজিজ জানিয়েছেন, জমি অধিগ্রহন সম্পন্ন হলে মানুষ যে পেশা হারাবে এই সচেতনতা এখনো আসেনি। মানুষকে সচেতন করতে এ বিষয়ে প্রচারণা চালানো প্রয়োজন। নিজেদের কর্ম পেশা হারানোর আগেই ঠিক করে নিতে হবে। না হয় মানুষ অর্থনৈতিকভাবে চরম দূর্ভোগে পড়বে।
কালারমারছড়া ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার শামসুল আলম জানিয়েছেন, সব জমি অধিগ্রহন হলে কালারমার ছড়া, ধলঘাটা, মাতারবড়ি ইউনিয়নে লবণ চাষের জমি ১০ ভাগও থাকবে না। হোয়ানক ইউনিয়নের ৮০ ভাগ জমি অধিগ্রহনে চলে যাবে। এতে বিপুল সংখ্যক মানুষ বেকার হয়ে পড়বে। তাই ভিন্ন পেশার জন্য নিজেকে প্রস্ততbকরতে হবে। না হয় বিপাকে পড়বে পেশা হারানো মানুষ।
বেজা’র উপসচিব মোঃ শামীম হোসেন জানান, মহেশখালীতে প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং গভীর সমুদ্র বন্দর চালু হলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে আমূল পরিবর্তন আসবে, যা দেশের অর্থনীতির "গেমচেঞ্জার" হিসেবে কাজ করবে। বিশাল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগ আগামী ২০-৩০ বছরে প্রায় বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ আকৃষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ব্যাপক কর্মসংস্থান, এই অঞ্চলের শিল্পায়ন ও অবকাঠামো উন্নয়নের ফলে প্রায় ২৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে।



