জাতীয় অবিবাহিত দিবস আজ
Saturday, September 26, 2026
সংবাদ ডেস্ক:
বিয়ের বয়স পেরিয়ে যাচ্ছে, তাই আত্মীয়-স্বজনের প্রশ্নও শুরু—‘কবে বিয়ে করছেন?’ কেউ হাসতে হাসতে প্রশ্ন এড়িয়ে যান, কেউ বিরক্ত হয়ে প্রসঙ্গ বদলে দেন। আবার অনেকের ভাবনা, বিয়ে না করেও যদি নিজের মতো ভালো থাকা যায়, তাহলে সমস্যা কোথায়? আজ সেই মানুষগুলোর জন্যই বিশেষ দিন—জাতীয় অবিবাহিত দিবস। অবিবাহিত থাকা এখন আর শুধু একাকী থাকার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়া, ক্যারিয়ার ও স্বপ্নকে গুরুত্ব দেওয়া, পরিবার-বন্ধুদের সময় দেওয়া কিংবা নিজের পছন্দমতো জীবনযাপন—অনেকের কাছেই অবিবাহিত জীবনের এসব দিক আকর্ষণীয়। তাই ‘কেউ পেল না’—অবিবাহিত মানুষকে ঘিরে এমন পুরোনো ধারণা এখন অনেকটাই বদলে গেছে। যেভাবে শুরু হলো দিবসটির: অবিবাহিত জীবন উদ্যাপনের ধারণা অবশ্য নতুন নয়। ১৯৮৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ‘বাকআই সিঙ্গেলস কাউন্সিল’ জাতীয় অবিবাহিত সপ্তাহ চালু করে। বিয়ে ও ভালোবাসাকে ঘিরে বিভিন্ন আয়োজনের পাশাপাশি অবিবাহিত মানুষদের জন্যও উদ্যাপনের সুযোগ তৈরি করাই ছিল এর উদ্দেশ্য। পরে ২০১৪ সালে কারেন রিডের উদ্যোগে ১১ জানুয়ারি জাতীয় অবিবাহিত দিবস চালু হয়। ১/১১-এর সংখ্যাগত বিন্যাসকে অবিবাহিত জীবনের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করে ওই তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল। ২০১৭ সালে জাতীয় অবিবাহিত দিবসের উদ্যোক্তারা দিনটিকে জাতীয় অবিবাহিত সপ্তাহের সঙ্গে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর সেপ্টেম্বরের তৃতীয় পূর্ণ সপ্তাহে অবিবাহিত সপ্তাহ এবং সপ্তাহের শেষ শনিবার জাতীয় অবিবাহিত দিবস পালনের প্রচলন শুরু হয়। বদলেছে অবিবাহিত জীবন নিয়ে ধারণা: একসময় বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে বিয়ে না করাকে সমাজের চোখে বড় সমস্যা হিসেবে দেখা হতো। তবে সময়ের সঙ্গে সেই দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন এসেছে। এখন অনেক নারী-পুরুষই নিজেদের পছন্দে অবিবাহিত জীবন বেছে নিচ্ছেন। কেউ ক্যারিয়ার গড়তে ব্যস্ত, কেউ নিজের স্বপ্ন পূরণে ছুটছেন। আবার কেউ হয়তো জীবনসঙ্গীর প্রয়োজনই অনুভব করছেন না। ফলে অবিবাহিত মানেই অসুখী কিংবা একাকী—এমন ধারণার সঙ্গে বাস্তবতার পার্থক্য রয়েছে। ইতিহাসেও অবিবাহিত জীবন বেছে নেওয়ার উদাহরণ আছে। ইংল্যান্ডের রানি প্রথম এলিজাবেথ বিয়ের জন্য দীর্ঘদিন সামাজিক ও রাজনৈতিক চাপের মুখে থাকলেও শেষ পর্যন্ত অবিবাহিত ছিলেন। প্রায় ৪৫ বছর শাসনকালে নিজের ক্ষমতা ও স্বাধীনতা ধরে রেখেছিলেন তিনি। অবিবাহিত জীবন নিয়ে কী বলছে গবেষণা: অবিবাহিত জীবন নিয়ে বিভিন্ন সময়ে পরিচালিত গবেষণায় ভিন্ন ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে। জার্মানিতে ১৯ বছর ধরে পরিচালিত একটি গবেষণায় বিয়ে, একসঙ্গে বসবাস ও প্রেমের সম্পর্কের সঙ্গে সাপ্তাহিক শারীরিক কর্মকাণ্ডের সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হয়। গবেষণাটি প্রকাশিত হয় ‘সামাজিক বিজ্ঞান ও চিকিৎসা’ সাময়িকীতে। অন্য একটি গবেষণায় পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ এবং শারীরিক কর্মকাণ্ডের সম্পর্ক নিয়ে বিশ্লেষণ করা হয়। এতে দেখা যায়, পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সামাজিকভাবে যুক্ত থাকার সঙ্গে শারীরিক কর্মকাণ্ডেরও সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে এই সম্পর্ক আরও দৃশ্যমান ছিল। ঘুম নিয়েও গবেষণা হয়েছে। ‘বৈবাহিক অবস্থা ও জাপানি কর্মজীবীদের ঘুমের সম্পর্ক’ শীর্ষক গবেষণায় ৭৮৬ জন কর্মজীবীর তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। সেখানে বৈবাহিক অবস্থার সঙ্গে ঘুমের সময়, মান ও ঘুমের ছন্দের সম্পর্ক পাওয়া যায়। তবে এ গবেষণার ভিত্তিতে অবিবাহিতদের ঘুম সবসময় ভালো—এমন সিদ্ধান্তে যাওয়ার সুযোগ নেই। পরিবার কাঠামো ও পরিবেশের সম্পর্ক নিয়েও গবেষণা হয়েছে। সুইডেনের পরিবারগুলোর কার্বন নিঃসরণ বিশ্লেষণ করে এক গবেষণায় সন্তান থাকা ও সন্তানহীন পরিবারের মধ্যে কার্বন নিঃসরণের পার্থক্য পাওয়া যায়। তবে এ তথ্যকে সরাসরি অবিবাহিত জীবন পরিবেশবান্ধব—এমন সিদ্ধান্তের ভিত্তি হিসেবে দেখা ঠিক নয়। অবিবাহিত মানুষের সংখ্যাও কম নয়: ২০২৩ সালের হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রে ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী ১২ কোটি ৭০ লাখের বেশি অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন। তাদের মধ্যে ৫৩ শতাংশ নারী এবং ৪৭ শতাংশ পুরুষ। এই অবিবাহিত মানুষের ৫৬ শতাংশেরও বেশি জানিয়েছেন, তারা অগত্যা প্রেমের সম্পর্ক বা জীবনসঙ্গী খুঁজছেন না। অর্থাৎ অবিবাহিত মানেই সঙ্গী খোঁজার অপেক্ষায় থাকা—এমন ধারণাও সঠিক নয়। নিজের মতো করে উদ্যাপন: জাতীয় অবিবাহিত দিবসে নিজের জন্য একটু সময় রাখা যেতে পারে। বন্ধুদের সঙ্গে রাতের খাবার, আড্ডা কিংবা এক কাপ কফি দিয়েও দিনটি উদ্যাপন করা যায়। চাইলে বহুদিনের জমে থাকা ভ্রমণের পরিকল্পনাটাও শুরু করা যেতে পারে। কেউ একা ঘুরতে পছন্দ করেন, কেউ আবার বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। নিজের পছন্দের জায়গায় ঘুরতে যাওয়া, সিনেমা দেখা, বই পড়া কিংবা দীর্ঘদিনের কোনো শখ পূরণ করার জন্যও দিনটি হতে পারে একটি ভালো উপলক্ষ। চাইলে দিনটি অন্যের জন্যও উৎসর্গ করা যায়। কোনো দাতব্য প্রতিষ্ঠানে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করা, প্রবীণদের সময় দেওয়া কিংবা গাছ লাগানোর মতো সামাজিক কর্মকাণ্ডেও অংশ নেওয়া যেতে পারে। কারণ অবিবাহিত মানেই একা নয়। পাশে থাকতে পারেন পরিবার, বন্ধু কিংবা নিজের পছন্দের মানুষ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—সুখের সংজ্ঞা সবার জন্য এক নয়। বিয়ে করা বা না করা জীবনের একটি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। তবে নিজের জীবনকে নিজের মতো করে ভালোবাসা, স্বপ্নকে গুরুত্ব দেওয়া এবং নিজের সিদ্ধান্তকে সম্মান করাও জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।



