আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জমি দখলের চেষ্টা: হামলায় আহত ৪, প্রধান আসামি শহিদুল্লাহ কারাগারে

তানিম হোসেন ইমন, রামু:: কক্সবাজারের রামুতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জোরপূর্বক জমি দখলকে কেন্দ্র করে এক রক্তক্ষয়ী হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে এক প্রবীণ ব্যক্তি ও নারীসহ একই পরিবারের চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে বিচারক তা নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রামু রাজারকূল মৌজার বি.এস ৩৬৮৬ নম্বর খতিয়ানভুক্ত জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বিষয়টি নিয়ে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা (মামলা নং ৪৪৬/২০২৫) বিচারাধীন রয়েছে। বিজ্ঞ আদালত বিরোধপূর্ণ জমিতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং উভয় পক্ষকে কাজ করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গত ১৭ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) রাত আনুমানিক ৭টার দিকে রামু উপজেলার রাজারকূল ইউনিয়নের ঢালারমুখ (ঘোনার পাড়া) এলাকায় জমি দখলের চেষ্টা চালানো হয়। ১ নম্বর আসামি মো. শহিদুল্লাহর নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি সশস্ত্র দল জমিতে জোরপূর্বক প্রবেশের চেষ্টা করলে ভুক্তভোগীরা বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আসামিরা কিরিচ, লোহার রড, হক স্টিক ও লাঠিসোঁটা নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় ৭০ বছর বয়সী প্রবীণ মো. ফেরদৌস, মো. ওসমান (৫০), রাশেদা (৬০) ও আশরাফুল (২১) গুরুতর আহত হন। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ১ নম্বর আসামি হত্যার উদ্দেশ্যে কিরিচ দিয়ে কোপ দিলে বৃদ্ধ ফেরদৌসের বাঁ পাঁজরে লেগে রক্তাক্ত জখম হয়। অন্য আসামিরা বাকিদের রড ও হকি স্টিক দিয়ে পিটিয়ে জখম করে। হামলার পাশাপাশি আসামিরা ভিকটিম আশরাফুলের কাছ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের একটি ‘আইফোন ১৫ প্রো ম্যাক্স’ ওসমানের কাছ থেকে নগদ ৫০ হাজার টাকা এবং রাশেদার গলা থেকে ১ ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নিয়ে যায়। হামলার পর স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে মো. ওসমানের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তিনি বর্তমানে সেখানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় আহতদের স্বজন মোছাঃ উর্মি কামাল আনিছা বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০-১২ জনকে আসামি করে রামু থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন। মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন—রামু উপজেলার ফতেখাঁরকূল ইউনিয়নের দক্ষিণ দ্বীপ (১নং ওয়ার্ড) এলাকার বাসিন্দা মো. শহিদুল্লাহ (৪৫), সাইফুল ইসলাম (৫৩), রশিদ আহমদ (৬০), ছালেহ আহাম্মদ (৫৮), মো. শাহরিয়ার নাজিম (২১), জয়নাল আবেদীন (৫৪), মো. সাইয়েদ (৩০), আব্দুল্লাহ মো. নোমান (২৮), আব্দুল্লাহ মো. জিনান (২৫), আব্দুল্লাহ মো. আদনান (২২) এবং মো. সামির (২০). মামলার পর প্রধান আসামি মো. শহিদুল্লাহ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে বিজ্ঞ আদালত তা নামঞ্জুর করে তাঁকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।