রশিদনগরে রাজনৈতিক প্রভাব ও জালিয়াতির মাধ্যমে সারের ডিলারশিপ দখলের পায়তারা: নাছির ও ওবাইদের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি
Monday, September 21, 2026
তানিম হোসেন ইমন, রামু:::
কক্সবাজারের রামু উপজেলার রশিদ নগর ইউনিয়নে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে রাজনৈতিক প্রভাব ও দুর্নীতির মাধ্যমে রাসায়নিক সারের ডিলারশিপ বাগিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় দুই নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্তরা হলেন রশিদ নগর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন এবং রশিদ নগর ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব ওবাই উল্লাহ ওবাইদু।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নাছির উদ্দিন ও ওবাই উল্লাহ বর্তমানে একটি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চালের ডিলারশিপ পরিচালনা করছেন। তবে অতিরিক্ত আর্থিক লাভের আশায় তারা এবার নিজেদের স্ত্রীদের নামে সারের ডিলারশিপ নেওয়ার জন্য তৎপর হয়ে উঠেছেন। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী লাইসেন্স পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নিজস্ব বা বৈধ গুদামঘর থাকা বাধ্যতামূলক হলেও, তারা জালিয়াতির আশ্রয় নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগে প্রকাশ, সারের লাইসেন্স পাওয়ার পূর্বশর্ত হিসেবে যে গুদামঘর দেখানোর বিধান রয়েছে, অভিযুক্তদের তা নেই। তারা স্থানীয় প্রশাসন ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তাদের বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। পরিদর্শনের সময় কর্মকর্তাদের এমন কিছু গুদামঘর দেখানো হয়েছে, যা মূলত তাদের নয়; মূল মালিকদের প্রভাব ও অর্থ দেখিয়ে ‘ভাড়া বা নিজস্ব’ বলে চালিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এলাকার সাধারণ কৃষক ও সচেতন মহলের আশঙ্কা, অনিয়মের মাধ্যমে ডিলারশিপ দেওয়া হলে এলাকায় সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি হবে এবং সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন প্রান্তিক কৃষকেরা। তাই অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করে গুদামের প্রকৃত মালিকানা যাচাই এবং এই অপচেষ্টা রুখে দেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
অভিযুক্তরা বলেন, অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ওবাই উল্লাহ ওবাইদু মুঠোফোনে জানান, "সারের ডিলারশিপের সাথে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আর চালের যে ডিলারশিপটি রয়েছে, সেটি আমি ছেলেদের দিয়ে দিয়েছি।"
অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য নাছির উদ্দিনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, "তারা ডিলারশিপের জন্য আবেদন করেছেন। বিষয়টি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং ফাইলটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মহোদয়ের দপ্তরে রয়েছে। সেখান থেকে যাচাই-বাছাই শেষে আবেদনটি জেলা প্রশাসক (ডিসি) স্যারের নিকট পাঠানো হবে।"



