সড়ক ভাড়া দিলো কক্সবাজার জেলা প্রশাসন



নিউজ ডেস্ক কক্সটিভি:::

পার্কিংয়ের জায়গা নেই, প্রকাশ করা হয়নি ইজারা বিজ্ঞপ্তিও। তবু কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী থেকে পাটুয়ারটেক পর্যন্ত মেরিন ড্রাইভ সড়কে পার্কিং ফির নামে টাকা আদায়ের অনুমতি দিয়েছে জেলা প্রশাসন। অনুমোদিত ব্যক্তির লোকজন সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে গাড়ি থামিয়ে টাকা আদায় করছেন। এতে হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।


জেলা প্রশাসনের নথি অনুযায়ী, গত ৩০ জুন পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহমুদুর রহমান সায়েমের স্বাক্ষরিত এক স্মারকে ইনানীর রূপপতি গ্রামের ফরিদ আহমদের ছেলে রফিক উল্লাহকে এক বছরের জন্য পার্কিং ফি আদায়ের অনুমতি দেওয়া হয়। চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত এ অনুমতি কার্যকর থাকবে।


অনুমোদনপত্র অনুযায়ী, বাস ও মিনিবাসের জন্য ১০০ টাকা, মাইক্রোবাস, কার ও জিপের জন্য ৬০ টাকা, সিএনজি ও অটোরিকশার জন্য ৩০ টাকা এবং মোটরসাইকেলের জন্য ২০ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত ফি প্রকাশ্যে প্রদর্শন করার শর্তও রয়েছে। এ ছাড়া অনুমোদনপত্রে বলা হয়েছে, নির্ধারিত এলাকার বাইরে টোল আদায় করা যাবে না এবং কোনো গাড়ি ২০ মিনিটের বেশি অবস্থান করলেই কেবল ফি নেওয়া যাবে।


পার্কিং নেই, সড়কেই টাকা আদায়


সরেজমিনে ইনানী থেকে পাটুয়ারটেক পর্যন্ত প্রায় ছয় কিলোমিটার সড়ক ঘুরে কোথাও পার্কিংয়ের নির্দিষ্ট জায়গা বা ফি-সংক্রান্ত সাইনবোর্ড দেখা যায়নি। সড়কে কোনো গাড়ি দাঁড়ালেই ফি আদায়কারীদের উপস্থিত হতে দেখা গেছে। পার্কিং ফির নামে টাকা নেওয়া হলেও গাড়ি রাখার দৃশ্যমান কোনো অবকাঠামো নেই। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে হয়রানির শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন পর্যটক।


কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী খোকা বলেন, ‘ইনানী-পাটুয়ারটেক সড়কে পার্কিংয়ের নামে সড়কের ওপরেই টোল নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু কোথাও পার্কিং লট নেই। পার্কিং সেবাটা কোথায়, সেবা নিশ্চিত করতে হবে। পার্কিংয়ের নামে পর্যটকদের পাশাপাশি স্থানীয়রাও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। জেলা প্রশাসনের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা দরকার।’


কক্সবাজারের নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও বিএনপি নেতা রাশেদ মোহাম্মদ আলী বলেন, রাজস্ব আদায় করতে হলে আগে সেবা নিশ্চিত করতে হবে। পার্কিংয়ের ব্যবস্থা ছাড়া রাস্তা থেকে রাজস্ব আদায়ের সুযোগ নেই। ইজারা দিতে হলে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা উচিত।


সওজের অনুমতি নেই


যে সড়কে গাড়ি দাঁড় করিয়ে টাকা আদায় করা হচ্ছে, সেটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) অধীন। সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী রোকন উদ্দিন খালেদ চৌধুরী বলেন, ‘এটা সওজের জায়গা। সড়কের ওপর কাউকে জায়গা দেওয়া হয়নি। সড়কের ওপর গাড়ি পার্কিং করে টোল নেওয়ার কোনো অনুমোদন সওজ কাউকে দেয়নি।’


অন্যদিকে, অনুমোদিত ব্যক্তি রফিক উল্লাহ সড়ক থেকে টাকা আদায়ের কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, পার্কিংয়ের জায়গা না থাকায় বিভিন্ন স্থান থেকে ফি আদায় করা হচ্ছে। তবে স্থায়ী পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে।


উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ইজারা পাননি বলেও স্বীকার করেন রফিক উল্লাহ। তবে কত টাকার বিনিময়ে অনুমতি পেয়েছেন, তা জানাতে রাজি হননি তিনি। তিনি জানান ভাষ্য, ‘সুলতান’ নামের একজন তাকে ইজারাটি পাইয়ে দিয়েছেন। কী প্রক্রিয়ায়, কীভাবে এবং কত টাকায় অনুমতি পেয়েছেন, তা তার জানা নেই। ওই ব্যক্তি তার এলাকার বড় ভাই বলে জানান তিনি।


বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই অনুমোদন


পার্কিংয়ের নির্দিষ্ট জায়গা না থাকা সত্ত্বেও কীভাবে ফি আদায়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তা জানতে জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহমুদুর রহমান সায়েমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি বলেন, পাটুয়ারটেকে এক বছরের জন্য পার্কিং ফি আদায়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে পার্কিংয়ের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা নেই।


তিনি জানান, পার্কিংয়ের জায়গা করতে গেলে বালিয়াড়ি বা গাছ কেটে জায়গা তৈরি করতে হবে, যা করার সুযোগ নেই। আবার গাড়ি থামতে নিষেধ করাও সম্ভব নয়। এ কারণে ফি আদায়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে সেখানে সাইনবোর্ড টাঙানোর কথা রয়েছে।


ইজারা দিতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘না, বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়নি। অতীতেও এর বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হতো না।’ বিজ্ঞপ্তি ও নির্দিষ্ট পার্কিংয়ের জায়গা ছাড়া কীভাবে অনুমোদন দেওয়া হলো এ প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।


জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (রাজস্ব) সাইফুল ইসলাম বলেন, এমন অনুমোদনের বিষয়ে তিনি জানেন না। বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দেখা হচ্ছে।


জেলা প্রশাসক আবদুল মান্নান বলেন, ‘আগে থেকে ওখানে একটা ইজারা দেওয়া ছিল। তবে যেটির বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, সেটি এটি কি না জানি না। অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জানতে পেরেছি। খোঁজখবর নিচ্ছি।’


সূত্র: বাংলা স্ট্রিম