দাম না পেলে আর পচবে না ফসল, কৃষকদের ছোট হিমাগার দিচ্ছে সরকার

 

বিরূপ আবহাওয়া ও মধ্যস্বত্বভোগীদের সিন্ডিকেটের কারণে প্রায়শই ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন কৃষকরা। বিশেষ করে পচনশীল কৃষিপণ্য উৎপাদনে জড়িত কৃষকদের লোকসান হয় বেশি। এই সমস্যা সমাধানের জন্য সরকার সারাদেশে কৃষকদের জন্য ‌‘ফারমার্স মিনি কোল্ড স্টোরেজ' বা ছোট হিমাগার তৈরি করে দিচ্ছে। প্রথম ধাপে একশটি এমন হিমাগার নির্মাণের কাজ চলছে।


বুধবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের মেদুলিয়াতে একটি হিমাগারের উদ্বোধন করেছেন কৃষি উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।


সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় সাশ্রয়ী কোল্ড স্টোরেজ প্রযুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে কৃষকের আয় বৃদ্ধি প্রকল্প’-এর অধীনে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এই হিমাগারগুলো তৈরি হচ্ছে। বিশ্বে উন্নত দেশগুলোতে এ ধরনের ছোট সংরক্ষণাগার থাকলেও বাংলাদেশে এটি প্রথম।


এই হিমাগারগুলো ৫ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় যেকোনো ধরনের পচনশীল কৃষিপণ্য ১৫ থেকে ২১ দিন পর্যন্ত তাজা রাখতে সক্ষম। মানিকগঞ্জের মেদুলিয়ার হিমাগারটি সেখানকার ‘সমন্বিত কৃষক উন্নয়ন সংঘ’ পরিচালনা করবে।


সরেজমিনে দেখা যায়, মেদুলিয়ার হিমাগারটি একটি আমদানি করা পণ্যের কন্টেইনারে তৈরি করা হয়েছে। এটি সৌরশক্তি চালিত, যার ফলে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী এবং পরিবেশবান্ধব। এর ছাদে সোলার প্যানেল বসানো আছে। একটি হিমাগারে প্রায় ১০ টন পর্যন্ত কৃষিপণ্য সংরক্ষণ করা যায়। এর ভেতরে একটি ছোট চেম্বার রয়েছে, যা তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ করে। মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমেও এই হিমাগারের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।


ওই কোল্ড স্টোরেজ উদ্বোধনের সময় কৃষি উপদেষ্টা বলেন, যখন কৃষক ফসলের দাম পাবে না, তখন এরমধ্যে রাখবে। কারণ এ দেশে এমন পরিস্থিতি হয়, দাম না থাকায় মূলা গরু-ছাগলে খায়। আবার ভরা মৌসুমে টমেটো বা ফুলকপির মতো পণ্য পচে নষ্ট হয়। এসব সমস্যার সমাধান করবে এ কোল্ডস্টোর। আশা করছি, এটি কৃষকদের দীর্ঘদিনের দুঃখ ঘোচাবে।


প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, একটি ছোট হিমাগার তৈরি করতে প্রায় ৫ লাখ টাকা খরচ হয়, যা ১০ টন পণ্য ধারণ করতে পারে। তবে মেদুলিয়ার কন্টেইনারভিত্তিক সৌরচালিত সংস্করণের খরচ ১৫ লাখ টাকা। প্রচলিত কোল্ড স্টোরেজের তুলনায় এগুলোর পরিচালন খরচ প্রায় ৭০ শতাংশ কম। কৃষকরা বিনামূল্যে এই হিমাগারগুলো পাচ্ছেন। যেহেতু এটি সোলার সিস্টেমে চলে, তাই বিদ্যুৎ খরচ খুবই কম হবে, যা পরিচালনাকারী সংস্থা বা ব্যবহারকারী বহন করবে।


এ প্রকল্পের পরিচালক তালহা জুবায়ের মাসরুর বলেন, টমেটো, ফুলকপি, মরিচ, লাউ, আম, ড্রাগন ফলসহ নানা ফসল এতে কয়েকদিন থেকে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত সংরক্ষণ করা সম্ভব। ভবিষ্যতে আমরা এ প্রকল্পকে আরও সম্প্রসারণ করতে চাই, যাতে কৃষকের আয় বাড়ে, ফসলের অপচয় কমে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হয়।