দৈনিক সকালের কক্সবাজার সম্পাদক ও প্রতিবেদকের বিরুদ্ধে আরাফাত চৌধুরীর চাঁদাবাজির মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক: দৈনিক সকালের কক্সবাজার পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক নুরুল ইসলাম (দানু) ও প্রতিবেদক শাহেদ ফেরদৌস হিরুর বিরুদ্ধে একটি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেছেন উখিয়া ডিগ্রী কলেজে রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগে প্রভাষক আরাফাত হোসেন চৌধুরী। বৃহস্পতিবার দুপুরে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (উখিয়া) আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে উখিয়া থানার ওসিকে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, মামলার বাদী একজন নিরীহ ও শিক্ষিত লোক। পক্ষান্তরে আসামীগণ চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও অত্যান্ত খারাপ প্রকৃতির লোক। মামলার বাদী স্থানীয় উখিয়া ডিগ্রী কলেজে রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত আছে। পাশাপাশি একই উপজেলার কোর্ট বাজার ষ্টেশনে ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। এছাড়াও দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা তার অঙ্গ সংঘঠন দলের সাথে জড়িত ছিল। বিগত সরকারের আমলে নানা মামলা হামলার শিকার হয়ে বাদি অনেকটা নিঃস্ব। অথচ, এজাহারের ২নং আসামী কক্সবাজার পৌর আওয়ামীলীগ নেতা। সে দীর্ঘদিন আওয়ামীলীগের আশ্রয় প্রশ্রয়ে কক্সবাজার শহরে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। কক্সবাজার থেকে প্রকাশিত দৈনিক সকালের কক্সবাজার পত্রিকা ক্রয় করে তিনি বর্তমানে উক্ত পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক পরিচয় দিয়ে নানা অপকর্ম করে আসছে। অপর আসামী তাদের সহযোগী সাংবাদিক পরিচয়ধারী চাঁদাবাজ ও ইয়াবা ব্যবসায়ী হয়। কক্সবাজারে তাদের ১৫ জনের একটি ইয়াবা সিন্ডিকেট রয়েছে। তাদের নির্দিষ্ট কোন পেশা না থাকলেও কক্সবাজার শহরে তাদের একাধিক ফ্ল্যাট, প্লট ও বেসরকারী হাসপাতালের অংশীদারীত্ব রয়েছে। তাদের ইয়াবা ব্যবসাতে যাতে কেউ বাধা হতে না দাড়ায় সেজন্য তারা পুলিশ, বিজিবি সহ প্রশাসনের দক্ষ, সৎ, অফিসারদের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রচার করে তাদের ধোকা দিয়ে নিজেরা ইয়াবা ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। আগে প্রশাসনকে টার্গেট করে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করলেও তাদের নতুন টার্গেট রাজনৈতিক নেতা ও ব্যবসায়িরা। তারা নির্দিষ্ট অংকের চাঁদা দাবী করে, টাকা না পেলে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করে চরম মানহানি করে থাকে। গত ১৫ জানুয়ারি সন্ধ্যা অনুমান ৭টার দিকে ২লাখ টাকা অজ্ঞাত নাম্বার থেকে ২নং আসামী ফোন করে চাঁদা দাবী করে। উক্ত সময়ে বাদি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কোর্ট বাজার তার নিজ অফিসে ছিল। ওইদিন বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দেয়া হয়নি। বিষয়টি বাদি আরাফাত চৌধুরীর দূর্বলতা মনে করে গত ২০ জানুয়ারী দৈনিক সকালের কক্সবাজার পত্রিকার ১ম পাতার ৩নং কলামে আরফাত চৌধুরীর বিরুদ্ধে "উখিয়া উপজেলা বিএনপি নেতা আরাফাতের নেতৃত্বে ১২২ বস্তা মাছ লুট” ১০০ বস্তা ফেরত, বাকি ২২ বস্তা নিয়ে ধোঁয়াশা। শিরোনামে চরম একটি মিথ্যা ও মানহানিকর সংবাদ পরিবেশন করে। যার কোন নূন্যতম সত্যতা নাই। মামলার এজাহরে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, বাদি আরাফাত চৌধুরী পেশাগত ক্যারিয়ার এবং রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংস করার কুমানষে এই মিথ্যা ও মানহানিকর সংবাদ প্রকাশ করেছে। ১নং আসামী আওয়ামীলীগ নেতা হওয়ায় তিনি নিজের কুকর্ম ঢাকার জন্য এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে উক্ত প্রতিবেদন/সংবাদ তৈরী করে এই অপকর্ম করছে। ২নং আসামীর নির্দিষ্ট কোন পেশা নাই। উক্ত পত্রিকা ও নিয়মিত প্রকাশিত হয় না। কাউকে টার্গেট করে একটি মানহানিকর সংবাদ প্রকাশ করার পর মান সম্মানের ভয়ে যার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রচার করা হয়েছে তার থেকে চাঁদা বাবদ টাকা নিয়ে কিছু দিন চুপ থাকে। পরবর্তীতে অন্য আর একজন নতুন করে টার্গেট করে সংবাদ প্রকাশ করে চাঁদা দাবী করে। এরই ধারাবাহিকতায় বাদীর কাছ থেকে চাঁদা দাবী করে চাঁদা না পেয়ে উক্ত মানহানিকর সংবাদ পরিবেশন করে। এতে নাদী আরফাত চৌধুরী মারাত্মক ভাবে সামাজিক ও পারিবারিক ভাবে মানহানি হয়ে হেয় পতিপন্নের স্বীকার হয়েছে। তাই তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের আবেদন জানাই। অন্যথায় তারা সমাজের কাউকে শান্তিতে থাকতে দিবে না। ইতিপূর্বে উক্ত সিন্ডিকেট অনেক মানুষকে এরকম করে হয়রানি করে টাকা আদায় করে আসছে। মামলার বাদী আরফাত হোসেন চৌধুরী জানান, 'সত্যি বলতে কি আমি একজন কলেজের প্রভাষক। পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য করে জীবিকা নির্বাহ করি। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদি দল বিএনপি করি বলে গত আওয়ামী দু:শাসনামলে মিথ্যা মামলায় জেলজুলুমের শিকার হয়েছি। এখনও কিছু আওয়ামীলীগের দোসর আমার পিছু ছাড়েনি। গত ১৫ জানুয়ারি সন্ধ্যায় আমার হোয়াটসপ নাম্বারে অপরিচিত একটি কল দিয়ে শাহেদ ফেরদৌস হিরু নামের এক ব্যক্তি নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে ২লাখ টাকা চাঁদাদাবি করেন। আমি দিতে পারিনি বলে আমার বিরুদ্ধে একটি মানহানিকর মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করেন। এতে করে আমার ক্যারিয়ারের মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। এতে আমি প্রতিকারের আশায় আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি।' বাদী পক্ষের আইনজীবি এডভোকেট মোহাম্মদ রিদুয়ানুল হক জানান, 'আমার মক্কেল আরফাত হোসেন চৌধুরী একজন সহস সরল কলেজের প্রভাষক, ব্যবসায়ী ও তরুন রাজনীতিবিদ। সমাজের তার অনেক সুনাম রয়েছে। সাংবাদিক পরিচয়দানকারী আসামীরা যোগসাজস করে তার কাছ থেকে ২লাখ টাকা চাঁদাদাবি করেন। সে চাঁদা দিতে অস্বীকৃত করলে তার বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করেছে। সংবাদটি বিন্দুমাত্র সত্য নয়। এতে আরফাত চৌধুরীর সুনাম ক্ষুন্ন হয়েছে। আমরা আইনের আশ্রয় নিয়েছি। আশা করি আইনের কাছে আমরা প্রতিকার পাবো।