মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে আহত বাংলাদেশী শিশু হুজাইফা আর নেই
Saturday, February 07, 2026
আহসান সুমন, কক্সবাজার :
মিয়ানমার সীমান্ত থেকে ছোড়া গুলিতে গুরুতর আহত বাংলাদেশী শিশু হুজাইফা সুলতানা আফনান আর নেই।
শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার কিছু সময় পর রাজধানীর জাতীয় ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
বেদনাবিধুর এই খবরটি বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে।
এর আগে ১১ জানুয়ারি সকালে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে ছোড়া গুলিতে আহত হয় হুজাইফা। তাকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে সন্ধ্যা ছয়টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউতে) ভর্তি করা হয়। সেখানে লাইফ সাপোর্টে ছিল শিশুটি। রাতে চিকিৎসকেরা জানান, গুলিটি তার মস্তিষ্কে প্রবেশ করেছে। তাই অপারেশন করে সেটি বের করা সম্ভব নয়।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যানেসথেসিয়া ও আইসিইউ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক হারুন অর রশিদ জানিয়েছিলেন, তাকে অস্ত্রোপচার করা হয়। তবে ঝুঁকি থাকায় মস্তিষ্কে ঢুকে যাওয়া গুলিটি বের করা সম্ভব হয়নি। মস্তিষ্কের চাপ কমানোর চেষ্টা করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে ঢাকায় নেয়া হয়।
গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর হুজাইফার চাচা মোহাম্মদ এরশাদ সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, রাতভর সীমান্তের ওপারে গোলাগুলির শব্দে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছিল। সকালে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত মনে হওয়ায় শিশুটি খেলতে বাইরে বের হয়। এসময় আবারও সীমান্তের ওপারে গোলাগুলি শুরু হলে একটি গুলি এসে তার মাথায় লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হয়।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সম্প্রতি বিমান হামলা, ড্রোন হামলা, মর্টার শেল ও বোমা বিস্ফোরণ বেড়েছে। মংডু টাউনশিপের আশপাশের এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) অবস্থানে সরকারি জান্তা বাহিনী বিমান হামলা জোরদার করেছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘর্ষে সীমান্ত পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে ওপারের গোলাগুলির প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জনপদে। টেকনাফের বিভিন্ন এলাকায় গোলার শব্দে ঘরবাড়ি কেঁপে উঠছে। ওপার থেকে ছোড়া গুলি এসে পড়ছে লোকজনের বসতঘর, চিংড়িঘের ও নাফ নদীতে। হুজাইফার মৃত্যুতে সীমান্তে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এদিকে শিশুটির মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বাংলাদেশ প্রান্তের নিরস্ত্র মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের জরুরি পদক্ষেপ দাবি করেন সীমান্ত এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা।



