কক্সবাজারে পৃথক ঘটনায় চার মরদেহ উদ্ধার: আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি

জীবিকার তাগিদে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কলাতলীর একটি ভাড়া বাসায় স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করতেন। পেশায় তিনি একজন ইজিবাইক চালক ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকট ও ধার-দেনার চাপ নিয়ে তার সংসারে অশান্তি চলছিল। নিহতের স্ত্রী বলেন,“সেহরির সময় ধার-দেনা নিয়ে আমাদের কথা কাটাকাটি হয়। তিনি আমাকে বাপের বাড়ি থেকে টাকা এনে দিতে বলেন। আমি মাকে ডাকতে বাইরে গেলে ফিরে এসে দেখি ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখি তিনি ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলে আছেন।” কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি ছমি উদ্দিন বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহের জেরে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে।” চাঁদা না দেওয়ায় হিন্দু যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা কক্সবাজার পৌরসভার বিজিবি ক্যাম্প পল্লানকাটা এলাকায় চাঁদা না দেওয়ায় গণেশ পাল (৩৮) নামে এক হিন্দু যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। নিহত গণেশ পাল ওই এলাকার বিশ্বনাথ পালের ছেলে এবং কক্সবাজার বড়বাজারের একজন মুদির দোকানদার ছিলেন। নিহতের স্ত্রী শেফালি পাল ও ভাই আশীষ পাল জানান, “বাড়িতে সেপটিক ট্যাংক নির্মাণ করতে গেলে স্থানীয় জিসান নামের এক ব্যক্তি চাঁদা দাবি করেন। এ নিয়ে কয়েকবার কথাকাটাকাটি হয়। শনিবার দুপুরে অতর্কিতভাবে গণেশকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে জিসান।” পরে গুরুতর আহত অবস্থায় গণেশকে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওসি ছমি উদ্দিন বলেন, “নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে চাঁদা দাবির বিষয়টি শোনা যাচ্ছে। তদন্ত করে বিস্তারিত জানা যাবে এবং জড়িতদের আটক করতে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।” উখিয়ায় স্বামীর লাথিতে স্ত্রীর মৃত্যু, স্বামী পলাতক এদিকে উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের বাদামতলী এলাকায় স্বামীর লাথিতে আনোয়ারা বেগম নামে এক গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। শনিবার বিকেল ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আনোয়ারা বেগম পালংখালী ইউনিয়নের থাইংখালী হাকিমপাড়া এলাকার আব্দুমজিদের মেয়ে। তার স্বামী আব্দুজলিল জালিয়াপালং ইউনিয়নের বাদামতলী এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক কলহের জেরে স্বামী আব্দুজলিল স্ত্রীকে লাথি মারলে গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর থেকেই স্বামী পলাতক রয়েছে। নিহত দম্পতির দুই ছেলে রয়েছে। তাদের মধ্যে বড় ছেলের বয়স ৮ বছর এবং ছোট ছেলের বয়স ৫ বছর। উখিয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর আহমদ জানান, স্বামীর হাতে স্ত্রী হত্যার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। নিহত নারীর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান পরিচালনা করছে।