ঋণ করে কোরবানি: ‘ইসলামিক’ নাকি সামাজিক

কোরবানি ইসলামি শরিয়তে সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। তবে শুধুমাত্র সমাজের চাপ, লোকলজ্জা বা বাহাদুরি দেখানোর জন্য ঋণ করে কোরবানি করা ইসলাম উৎসাহিত করে না। ইসলামে কোরবানির মূল উদ্দেশ্য হলো তাকওয়া ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ “আল্লাহর কাছে পৌঁছে না পশুর গোশত বা রক্ত, পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া।” — সূরা হজ: ৩৭ যদি কারও কাছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ না থাকে, তাহলে তার উপর কোরবানি ওয়াজিব নয়। এমন অবস্থায় ঋণ করে কোরবানি না করলেও গুনাহ হবে না। তবে কেউ যদি— ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা রাখেন, ঋণ নেওয়ায় কষ্ট বা ক্ষতির আশঙ্কা না থাকে, এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির নিয়তে করেন, তাহলে ঋণ করে কোরবানি করা জায়েজ হতে পারে। কিন্তু শুধু “মানুষ কি বলবে”, “সম্মান থাকবে না” বা সামাজিক প্রতিযোগিতার কারণে ঋণ করে কোরবানি করা উচিত নয়। কারণ ইসলাম মানুষের সামর্থ্য অনুযায়ী আমলকে গুরুত্ব দেয়, প্রদর্শনকে নয়। সুতরাং, ঋণ করে কোরবানি করা ইসলামি হতে পারে—যদি তা সামর্থ্য ও সৎ নিয়তের ভিত্তিতে হয়। আর শুধুই সামাজিক চাপে হলে তা ইসলামের মূল শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।