উখিয়া-টেকনাফে বাড়ছে অপহরণ সীমান্তজুড়ে আতঙ্ক, বিস্তৃত হচ্ছে মুক্তিপণ বাণিজ্য
Tuesday, June 30, 2026
আর.জে রাফি, কক্সটিভি উখিয়া প্রতিনিধি ::
কক্সবাজারের সীমান্তবর্তী উপজেলা উখিয়া ও টেকনাফে গত কয়েক বছরে উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে অপহরণের ঘটনা। একসময় ইয়াবা পাচার, চোরাচালান ও মানবপাচারের জন্য আলোচিত এ জনপদ এখন অপহরণ ও মুক্তিপণ বাণিজ্যের কারণেও দেশজুড়ে আলোচনায়। কৃষক, জেলে, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, বনকর্মী থেকে শুরু করে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দারাও অপহরণের শিকার হচ্ছেন। এতে স্থানীয়দের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, অপহরণ বৃদ্ধির পেছনে একাধিক কারণ একসঙ্গে কাজ করছে। সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা ও অন্যান্য মাদক চোরাচালান, মানবপাচার চক্রের সক্রিয়তা, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর অবস্থান, মুক্তিপণের মাধ্যমে দ্রুত অর্থ আদায়ের প্রবণতা এবং অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ না করাই অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, মাদক ও মানবপাচারকে কেন্দ্র করেই অপহরণের বড় অংশ সংঘটিত হচ্ছে। স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যক্তি ও সশস্ত্র অপরাধী গোষ্ঠীর যোগসাজশে এ চক্র পরিচালিত হচ্ছে। অনেক ঘটনায় মুক্তিপণ আদায়ের পর পরিবারগুলো থানায় অভিযোগ না করায় প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত ও বিচারের আওতায় আনা কঠিন হয়ে পড়ে।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৭ সালের পর বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার আগমন এবং সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তনের সুযোগে অপরাধী চক্রগুলো আরও সংগঠিত হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ও বনাঞ্চলকে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ব্যবহার করে তারা অপহরণ, চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে সব রোহিঙ্গাকে এসব অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; বরং কিছু সংঘবদ্ধ সশস্ত্র গোষ্ঠী ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, শিক্ষক ও সচেতন নাগরিকরা সীমান্ত এলাকায় যৌথ অভিযান জোরদার, পাহাড়ি অঞ্চলে নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি, মানবপাচার ও মাদক চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং ভুক্তভোগীদের নিরাপদে অভিযোগ জানানোর পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, শুধুমাত্র অভিযান পরিচালনা করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। সীমান্ত ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা, সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের অর্থায়নের উৎস বন্ধ করা, স্থানীয় জনগণের আস্থা বৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব হতে পারে।



