কচ্ছপিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে এডহক কমিটি অনুমোদনের পরই বিতর্ক: আর্থিক লেনদেনের চেষ্টার অভিযোগে প্রশ্নের মুখে সভাপতি

কচ্ছপিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে এডহক কমিটি অনুমোদনের পরই বিতর্ক: আর্থিক লেনদেনের চেষ্টার অভিযোগে প্রশ্নের মুখে সভাপতি কক্সবাজার (রামু): রামুর ঐতিহ্যবাহী কচ্ছপিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে সদ্য অনুমোদিত এডহক কমিটিকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। কমিটি অনুমোদনের পরপরই সভাপতি পদপ্রত্যাশী ও বর্তমান কমিটির দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেনের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এতে করে শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় সুশীল সমাজের মধ্যে চরম ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। ঘটনার মূল বিষয় ও অভিযোগের বিবরণ স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি বিদ্যালয় পরিচালনায় স্বচ্ছতা আনা ও নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড থেকে কচ্ছপিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের জন্য একটি চার সদস্যের এডহক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে কমিটি অনুমোদনের খবর প্রকাশের পর থেকেই সভাপতি নির্বাচন ও সদস্য পদ নিশ্চিত করাকে কেন্দ্র করে অনৈতিক লেনদেনের বিষয়টি সামনে আসে। আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ: অভিযোগ উঠেছে, সভাপতি পদে মনোনীত ব্যক্তি পদ ধরে রাখা এবং বিদ্যালয়ের বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ সুযোগ-সুবিধা ও শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে একটি বিশেষ মহলকে সঙ্গে নিয়ে অনৈতিক আর্থিক চুক্তি করেছেন। ক্ষমতার অপব্যবহার: সাধারণ অভিভাবক ও স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের উন্নয়নে নজর না দিয়ে একটি কায়েমি স্বার্থান্বেষী মহল বিদ্যালয়কে পকেটে ভরার চেষ্টা করছে। নতুন কমিটি গঠিত হওয়ার পরপরই সেটির বহিঃপ্রকাশ ঘটে। শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রতিক্রিয়া: নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক জানান, সভাপতি পদ নিয়ে এ ধরনের বিতর্ক বিদ্যালয়ের শিক্ষাকার্যক্রম এবং প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিকে চরম হুমকির মুখে ফেলছে। অভিযুক্ত ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বিদ্যালয়ের সদ্য মনোনীত এডহক কমিটির সভাপতি অভিযোগটি পুরোপুরি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। তিনি বলেন: "বিদ্যালয়ের একটি বিশেষ গোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে না পেরে এই অপপ্রচার চালাচ্ছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষা পরিবেশ উন্নত করা এবং নিয়ম অনুযায়ী পরিচালনা করাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।" অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জানান, সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হবে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমান পরিস্থিতি ও স্থানীয়দের দাবি বর্তমানে কচ্ছপিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। অনৈতিক ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষা পরিবেশ রক্ষা করতে এবং অভিভাবক-শিক্ষকদের সমন্বয়ে একটি স্বচ্ছ ও জবাদিহিতামূলক ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন কচ্ছপিয়ার সাধারণ জনগণ ও সচেতন মহল।