সার ডিলার নিয়োগ ঘিরে খুনিয়াপালংয়ে নানা প্রশ্ন, আবেদনকারীদের যোগ্যতা যাচাইয়ের দাবি।

তানিম হোসেন ইমন, কক্সটিভি::: কক্সবাজারের রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগকে কেন্দ্র করে নানা আলোচনা ও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, ডিলারশিপের জন্য আবেদনকারীদের মধ্যে কয়েকজনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, বিদ্যমান ডিলারশিপের সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্ক, চাকরির বিষয় এবং পূর্বের মামলা-সংক্রান্ত তথ্য রয়েছে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ যাচাই করে যোগ্য প্রার্থীদের মধ্য থেকে ডিলার নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খুনিয়াপালং ইউনিয়নে সার ডিলার হওয়ার জন্য মোট ১৯ জন আবেদন করেছেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন আবেদনকারীকে ঘিরে বিভিন্ন অভিযোগ ও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, তনি একটি এমপিওভুক্ত উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী ডিলারশিপের জন্য যোগ্য কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই করার বিষয়। আন্দোলন-সংক্রান্ত একটি হত্যা মামলায় আসামি থাকার অভিযোগ করা হয়েছে। মামলার বর্তমান অবস্থা ও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের আইনগত অবস্থান সংশ্লিষ্ট নথি দেখে যাচাই করা প্রয়োজন। মোস্তাক আহমদ–এর মালিকানাধীন মেসার্স মোস্তাক কৃষি বিতান। স্থানীয়দের অভিযোগ, তাঁর নামে ইতোমধ্যে একটি ওয়ার্ডভিত্তিক সার ডিলারশিপ রয়েছে এবং নতুন নামে আরমান স্টোর থেকে আরেকটি ডিলারশিপ নেওয়ার চেষ্টা চলছে। একই ব্যক্তি বা পরিবারের নামে একাধিক ডিলারশিপের সুযোগ আছে কি না, তা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের যাচাইয়ের বিষয়। বোরহান উদ্দিন–এর মালিকানাধীন মেসার্স নীল ঢেউ ট্রেডিং। স্থানীয়দের অভিযোগ, তাঁর রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা রয়েছে এবং তাঁর শ্বশুর জসিম উদ্দিন ভুলুর নামে একটি সার ডিলারশিপ রয়েছে। একই পরিবারের সদস্যদের একাধিক ডিলারশিপের বিষয়ে প্রযোজ্য নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে কি না, সেটিও যাচাইয়ের দাবি উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সার ডিলার নিয়োগে একটি প্রভাবশালী মহল সক্রিয় রয়েছে। তাঁদের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব নয়, বরং সরকারি নীতিমালার আলোকে আবেদনকারীদের যোগ্যতা, গুদামের সক্ষমতা, আর্থিক সামর্থ্য, পারিবারিক সম্পর্ক এবং পূর্বের ডিলারশিপ-সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। তবে স্থানীয়দের করা রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, সিন্ডিকেট বা প্রভাব বিস্তারের অভিযোগগুলোর স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। যাদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ উঠেছে, তাঁদের বক্তব্যও প্রতিবেদনের জন্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই দেখা প্রয়োজন। এদিকে সার ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে কৃষি মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা প্রযোজ্য। কৃষি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা-২০২৫ এবং পরবর্তীতে সংশোধিত নীতিমালা প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া ২০২৬ সালের ৩০ আগস্ট নীতিমালা বাস্তবায়ন সংক্রান্ত নির্দেশনাও প্রকাশ করা হয়েছে। তাই খুনিয়াপালং ইউনিয়নের ১৯ আবেদনকারীর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদনকারীদের নাগরিকত্ব, গুদামের ধারণক্ষমতা ও অবস্থান, আর্থিক সক্ষমতা, চাকরির তথ্য, পূর্বের ডিলারশিপ, পারিবারিক সম্পর্ক এবং কোনো প্রযোজ্য অযোগ্যতা রয়েছে কি না—এসব বিষয় নথিপত্রের মাধ্যমে যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও নীতিমালা অনুসরণ করে সম্পন্ন হবে এবং প্রকৃত যোগ্য আবেদনকারীরাই ডিলারশিপ পাবেন।