রামুতে মাদক সেবনকারীর হাতে মারধর ও শ্লীলতাহানির শিকার স্কুল শিক্ষার্থী; বাবা আহত

বিশেষ প্রতিবেদক :: কক্সবাজারের রামুতে পারিবারিক বিরোধের জেরে ১৩ বছর বয়সী স্কুল শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানি এবং তার বাবাকে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে আহত করার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আহত বাবা-মেয়েকে রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার চাকমারকুল ইউনিয়নের দক্ষিণ চাকমারকুলের মুজিবের দ্বীপ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগকারী জুলেখা বেগমের দাবি, তার স্বামী শামশুল আলম সকালে কৃষিজমিতে চাষাবাদ করতে যাওয়ার সময় তাদের ১৩ বছর বয়সী মেয়ে শাহিনা আক্তার কিছু দূর এগিয়ে দিয়ে বাড়িতে ফেরার পথে আসামিদের বাড়ির সামনে পৌঁছালে জাফর আলম ও তার স্ত্রী মাইমুনা আক্তার মুন্নি তার পথরোধ করেন। অভিযোগে বলা হয়, তারা কিশোরীকে টানা-হেঁচড়া করে জোরপূর্বক ঘরের ভেতরে নিয়ে গিয়ে লাঠিসোটা, কিল-ঘুষি ও লাথি দিয়ে মারধর করেন। এসময় কিশোরীর চিৎকার শুনে তার বাবা শামশুল আলম ঘটনাস্থলে গিয়ে মেয়েকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। এজাহারের অভিযোগ অনুযায়ী, তখন জাফর আলম ধারালো দা দিয়ে শামশুল আলমের মাথায় কোপ দেওয়ার চেষ্টা করলে তিনি বাম হাত দিয়ে তা প্রতিহত করেন। এতে তার বাম হাতের মধ্যম আঙুলের গোড়ায় গুরুতর কাটা জখম হয়। অপরদিকে মাইমুনা আক্তার মুন্নি লাঠি দিয়ে শামশুল আলমের মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করলে আঘাতটি তার পিঠে লাগে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া ১নম্বর আসামি কিশোরীর পরনের কাপড় টানাটানি করে ছিঁড়ে দিয়ে শ্লীলতাহানি করেছেন বলেও এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে বাবা-মেয়েকে উদ্ধার করেন বলে বাদীর দাবি। এ সময় আসামিরা তাদের আরও মারধর, খুন-জখম এবং ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে এলাকা ছাড়া করার হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। আহতদের রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্র ও ঘটনার স্থিরচিত্র এজাহারের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এবিষয়ে জুলেখা বেগম রামু থানায় লিখিত এজাহার দিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।