উখিয়া-টেকনাফে সার সংকটে কৃষকদের হাহাকার! দুই বস্তার প্রয়োজন, মিলছে মাত্র ২০ কেজি
Wednesday, September 23, 2026
আর.জে রাফি, কক্সটিভি উখিয়া ::
উখিয়া-টেকনাফে সার সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষকরা। জমির পরিমাণ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সার না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন তারা। দুই বস্তা সারের প্রয়োজন হলেও কোনো কোনো কৃষকের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে মাত্র ২০ কেজি সার। আবার ১০ কানি জমি চাষ করা কৃষকও পাচ্ছেন মাত্র ১০ কেজি সার—এমন অভিযোগ উঠেছে।
সার নিতে উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন ডিলারের বিক্রয়কেন্দ্রে কৃষকদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও চাহিদামতো সার না পাওয়ায় হতাশা ও ক্ষোভ বাড়ছে কৃষকদের মধ্যে।
উখিয়ার মেসার্স ছয়তারা সার বিতরণ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই সার নিতে কৃষকদের ভিড়। জমির পরিমাণ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সার চাইলেও সীমিত পরিমাণ সার দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন কয়েকজন কৃষক।
সার নিতে আসা এক কৃষক জানান, তার দুই বস্তা সার প্রয়োজন হলেও তাকে দেওয়া হয়েছে মাত্র ২০ কেজি। অন্য এক কৃষকের দাবি, প্রয়োজনীয় সার না পেলে কৃষিকাজ চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।
কৃষকদের অভিযোগ, চাহিদার তুলনায় বাজারে পর্যাপ্ত সার সরবরাহ না থাকায় সংকট তৈরি হয়েছে। তাদের কেউ কেউ দাবি করছেন, ডিলারদের একটি অংশ কৃষকের বরাদ্দের সার অন্যত্র সরিয়ে দিচ্ছেন। সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় সরকারি ভর্তুকির ইউরিয়া সার মিয়ানমারে পাচারের অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা।
এরই মধ্যে গত ৬ সেপ্টেম্বর উখিয়ার মরিচ্যা বাজারসংলগ্ন চেকপোস্ট এলাকায় প্রায় ১৫ টন ইউরিয়া সার জব্দ করা হয়। উপজেলা প্রশাসন, ৩০ বিজিবি ও উপজেলা কৃষি অফিসের যৌথ অভিযানে ৩০০ বস্তা সার জব্দের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্তের ওপারে ইউরিয়া সারের চাহিদাকে কেন্দ্র করে একটি চক্র দেশের অভ্যন্তর থেকে ভর্তুকির সার সংগ্রহ করে সীমান্তের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা ও এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্তসাপেক্ষ বিষয়।
এদিকে সার সংকটের মধ্যে উখিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরওয়ার জাহান চৌধুরী জানান, উপজেলার মেইন ডিলার ও খুচরা ডিলারদের মধ্যে ৭০ টন সার অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কোথাও অনিয়ম নজরে এলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বা কৃষি কর্মকর্তাকে অবহিত করার জন্য তিনি সচেতন নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে অতিরিক্ত বরাদ্দের পরও কৃষকের চাহিদামতো সার না পাওয়ার অভিযোগে বরাদ্দকৃত সার কোথায় যাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কৃষকরা। তাদের দাবি, প্রতিটি ডিলারের বরাদ্দ, মজুত ও বিক্রির হিসাব স্বচ্ছভাবে প্রকাশ করতে হবে। পাশাপাশি কৃষকের জাতীয় পরিচয়পত্র ও জমির পরিমাণ যাচাই করে নির্ধারিত পরিমাণ সার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার বলেন, কৃষকদের জন্য বরাদ্দ করা সার যাতে নির্ধারিত নিয়মের বাইরে যেতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি রয়েছে। অনিয়ম বা অবৈধভাবে সার পরিবহনের তথ্য পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কৃষকদের দাবি, সার সংকটের প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে কৃষকের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিয়ে ডিলারদের সার বিতরণ কার্যক্রমে আরও কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।



