বিশেষ প্রতিনিধি, টেকনাফ
মিয়ানমারের অভ্যন্তরে চলমান গৃহসংঘাতের জের ধরে বাংলাদেশের টেকনাফ সীমান্তে ফের তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আজ ৩০ অক্টোবর (শুক্রবার) রাত ১টা ৩০ মিনিটে মিয়ানমারের ভূখণ্ডে ভয়াবহ বিমান হামলার (এয়ারস্ট্রাইক) ঘটনা ঘটে। এতে বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে টেকনাফ সীমান্ত এলাকা, যার ফলে স্থানীয় সীমান্তবাসীর মধ্যে নতুন করে গভীর আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমারের জান্তা বাহিনী ও বিদ্রোহী সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাত চলে আসছে। মাঝখানে কিছুদিন পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত থাকলেও আজ গভীর রাতে হঠাৎ করেই মিয়ানমার অংশ থেকে পর পর কয়েকটি বিকট শব্দ ভেসে আসে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাত দেড়টার দিকে আকস্মিক বিমান হামলায় টেকনাফ পৌরসভা, হ্নীলা ও হোয়াইক্যং ইউনিয়নের সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাগুলোতে প্রচণ্ড কম্পন অনুভূত হয়। রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে এই আকস্মিক বিস্ফোরণে আতঙ্কিত মানুষ ঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন।
টেকনাফের নাফ নদী সংলগ্ন এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, “হঠাৎ রাত দেড়টার দিকে বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। মনে হচ্ছিল বিস্ফোরণটি আমাদের ঘরের কাছেই হয়েছে। শব্দের তীব্রতায় ঘরের জানালা কেঁপে ওঠে। দীর্ঘদিন পর আবার এমন বিমান হামলায় আমরা পুরো পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত।”
সীমান্তের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, ওপারে মিয়ানমারের সংঘাতপ্রবণ এলাকায় জান্তা বাহিনী বিদ্রোহী ঘাঁটি লক্ষ্য করে আকাশে যুদ্ধবিমান থেকে ভারী গোলা বর্ষণ ও বিমান হামলা পরিচালনা করছে। এর ফলেই এপারে সীমান্ত এলাকায় বিকট শব্দ ও কম্পন সৃষ্টি হচ্ছে।
এদিকে সীমান্ত পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার পর বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও কোস্ট গার্ডের টহল জোরদার করা হলেও জনগণ ভীতসন্ত্রস্ত। সীমান্তে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বিজিবি কঠোর সতর্ক অবস্থান থাকলেও নাফ নদী ও তৎসংলগ্ন সীমান্ত পয়েন্টগুলোতে রাত থেকেই আরো বেশি আতঙ্ক বেড়ে যায়।
বর্তমানে টেকনাফ সীমান্তজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ঘুমহীন রাত কাটিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন সীমান্তবর্তী সাধারণ মানুষেরা।



