মিয়ানমার থেকে আসা গুলিতে বাংলাদেশী কিশোরী নিহত; স্থানীয়দের সড়ক অবরোধ
Sunday, January 11, 2026
কক্সটিভি নিউজ :
মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ছোড়া গুলিতে কক্সবাজারের টেকনাফে হুজাইফা সুলতানা আফনান নামে বাংলাদেশী এক কিশোরী নিহত হয়েছে।
রোববার (১১ জানুয়ারি) সকালে ৬৪-বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
জানা গেছে, ভোরের দিকে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। ওই সময় সীমান্তের ওপার থেকে আসা গুলিতে ওই কিশোরী নিহত হয়।
তার বাড়ি সীমান্তের হোয়াইক্ষ্যং পুলিশ ফাঁড়ি সংলগ্ন এলাকায়।
এ ঘটনার পর ফুসে ওঠেছে স্থানীয় জনসাধারণ। তারা আফনান হত্যার প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক সড়ক অবরোধ করে রাখে। সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।
উত্তেজনাকর পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে মাঠে নামেন সেনা সদস্যরাও।
পরবর্তীতে স্থানীয়দের পাশে দাঁড়ান উখিয়া-টেকনাফ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী।
তিনি গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
বিজিবি সূত্র জানায়, ভোরে টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ৬৪ বিজিবির অধিনায়ক ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ করছেন। সেইসঙ্গে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর টহলও জোরদার করা হয়েছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে নাফ নদীর হোয়াইক্যং অংশে মাছ ধরার সময় মো. আলমগীর (৩০) নামে এক বাংলাদেশি জেলে গুলিবিদ্ধ হন।
হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সিরাজুল মোস্তফা লালু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারের রাখাইন সীমান্ত এলাকায় মাঝেমধ্যে গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। আজও কয়েক রাউন্ড গুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে।’
আহত জেলের বড় ভাই সরওয়ার আলম জানান, বৃহস্পতিবার মাগরিবের পর আলমগীর এবং আরেক জেলে আকবর নাফ নদীতে হোয়াইক্যং এলাকার বিলাইচ্ছর দ্বীপ সংলগ্ন এলাকায় মাছ ধরতে যান। নৌকায় অবস্থান করে নদীতে জাল ফেলছিলেন তারা। এসময় হঠাৎ কয়েক রাউন্ড গুলির বিকট শব্দ শোনা যায়। একপর্যায়ে আলমগীর নৌকার ভেতরে লুটিয়ে পড়েন। পরে দেখা যায়, তার বাম হাত থেকে রক্ত ঝরছে এবং একটি গুলি বাম হাত ভেদ করে বেরিয়ে গেছে। সঙ্গে থাকা অন্য জেলেদের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও জানান, আহত অবস্থায় প্রথমে আলমগীরকে উখিয়া কুতুপালং এমএমএস হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।



