অন্তর্বর্তী সরকারও ‘আটকে’ থাকতে চায় ১৯২৩ সালে

ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামলে ১৯২৩ সালে প্রণীত অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট অনুসরণ করে রাষ্ট্রের ‘গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর’ তথ্য গোপন রাখার নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি এ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে উল্লেখ করে অফিসিয়াল তথ্যের গোপনীয়তা বজায় রাখার এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তথ্য ফাঁসে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে চাকরি আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন-১ শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত একটি অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে। এ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তারা বলছেন, ১০০ বছরেরও বেশি সময়ের পুরোনো এ আইন কালাকানুন হিসেবেই পরিচিত। আইনটি বাস্তবায়নের জন্য দাপ্তরিকভাবে চিঠি দিয়ে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়ার নজির অতীতে কোথাও দেখা যায়নি। গত ৩০ ডিসেম্বর জারি করা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই আদেশে বলা হয়, ইদানীং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন শাখার গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর গোপনীয় তথ্যাদি পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হচ্ছে, যা অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট ১৯২৩-এর পরিপন্থি। এরূপ কার্যক্রমের ফলে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। তাই জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়—এমন গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর গোপনীয় তথ্যাদি ফাঁস বন্ধ করার বিষয়টি সব কর্মকর্তার মাধ্যমে মনিটরিং করা একান্ত প্রয়োজন।