কক্সবাজারে দুর্ঘটনার শিকার এলপিজি স্টেশনের মালিক এন. আলমের দুঃখ প্রকাশ
Friday, February 27, 2026
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি :
আসসালামু আলাইকুম
প্রিয় কক্সবাজার বাসি, গত বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) আমার মালিকানাধীন 'কক্সবাজার এলপিজি স্টেশন'-এ অগ্নি দুর্ঘটনার ঘটনার ঘটেছে। ঘটনাটি একেবারে অনাকাঙ্ক্ষিত ও নিছক দুর্ঘটনা। আমি সবার আগে এই দুর্ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন লোকজন ও তাদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। তাদের কষ্টে-যন্ত্রণায় আমি সমব্যথী। তাদের এই যন্ত্রণা আমার মনে মারাত্মকভাবে আঘাত করেছে। ঘটনার পর থেকে অসুস্থ হয়ে আমি শয্যাশায়ী অবস্থায় আছি।
প্রথম, আমি একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। এলপিজি ও জ্বালানি তেল ব্যবসায় আমার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। রামু উপজেলা/চকরিয়া উপজেলায় আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি সরকারি ও পরিবেশগত সর্বোচ্চ নিয়ম-নীতি বাস্তবায়ন করে প্রতিষ্ঠা করেছি। দক্ষ প্রতিষ্ঠান দিয়ে এই এলপিজি স্টেশনটি নির্মাণ করা হয়েছে এবং দক্ষ নিয়োগ দিয়ে পরিচালনা করার চিন্তা ছিল। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। দুর্ঘটনায়, ৮জন অগ্নিদগ্ধ হয়েছে৷ তাদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা গুরুতর হয়েছে। ঘটনার পর থেকে তাদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়দায়িত্ব আমি গ্রহণ করেছি। বর্তমানে তাদের ছয়জনের মধ্যে ৩ জন চট্টগ্রামে ও ৩ জন ঢাকায় সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এসব রোগীদের সাথে আমি এবং আমার লোকজন সার্বক্ষণিক নিয়োজিত। সঠিক ও সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে আমাদের কোনো ধরণের গাফিলতি নেই। এছাড়া আগুনে ঘরপুড়ে এবং নানাভাবে আরো যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছা পোষণ করেছি আমি। আইনকে শ্রদ্ধা করে আইন মতে তাদের ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে, ইনশাআল্লাহ।
একটি কথা সবাই জানবেন, এত বড় দুর্ঘটনা কেউ ইচ্ছে করে ঘটায় না বা কাজে এরকম কোনো অবহেলা রাখে না। দুর্ঘটনা সম্পূর্ণ আল্লাহর হাতে। দুর্ঘটনায় আমার অপূ্রণীয় আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু তাতে আমার একবিন্দু কষ্ট নেই। আমার কষ্ট অগ্নিদগ্ধে হাসপাতালের বিছানায় যন্ত্রণায় কাতরানো মানুষগুলোর কষ্টে। আর নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনের দুঃখে। এখন আমরা প্রধান ও একমাত্র কাজ দ্রুত সময়ের মধ্যে আহতদের সুস্থ করে তোলা। তার জন্য আমার যা যা করার দরকার সব করে যাবো ইনশাআল্লাহ।
জেলা প্রশাসন এই ঘটনার তদন্ত কমিটি গঠন করছে। টিমের কাছে আমার ও ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন বক্তব্য দিয়েছে। তদন্তে যাই উঠে আসে আমি তাই মেনে নেবো। আমার যা শাস্তি হয় তাই মাথা পেতে নেবো৷ কিন্তু এই ঘটনায় একটি কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্রের আভাস রয়েছে। প্রথমে সন্ধ্যা ৭টার দিকে গ্যাস লিকেজ হয়, কিন্তু অগ্নিকান্ড। তখন বালু ও অগ্নিনির্বাপন যন্ত্র এবং ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় লিকেজ আগুন বন্ধ করা হয়। কিন্তু পুনরায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকায় ফায়ার সার্ভিসের পরামর্শক্রমে টাংকিতে থাকা গ্যাস ছেড়ে দেয়া হয়। এসময় ফায়ার সার্ভিস আশেপাশে কোনো ধরনের আগুন না জ্বালাতে মাইকিং করে সবাইকে সতর্ক করেন। কিন্তু সন্দেহ হচ্ছে, গ্যাস ছেড়ে দেওয়া কালে আমার অ্যাসোসিয়েশনের পার্শ্ববর্তী বেলায়েত এবং সোহেল গং আমার স্টাফদের উপরে আক্রমণ করে একজনকে আহত করে।
তাকে সদর হাসপাতালে পাঠানো হয় এর পরবর্তীতে বেলায়েত-সোহেল গং আমার স্টাফদেরকে বলে-সবাই বের হয়ে যাও আমরা থাকবো ভিতরে। এর পরবর্তীতে ১০টা ৫ মিনিটের দিকে পাম্পের ৩০০ ফুট দূরের একটি গ্যারেজের সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়। স্থানীয়রা এবং আমি মনে করছি, ওই কুচক্রটি ষড়যন্ত্রমূলকভাবে গ্যারেজে ওয়েল্ডিং করে নাশকতার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে আগুনের সূত্রপাত ঘটিয়েছে। এতে আগুন লেগে আহত ও ঘরবাড়ি পুড়ে গেছে।
এদিকে আলামত নষ্ট না হওয়ার জন্য প্রশাসনের পরামর্শক্রমে পাম্প বেড়া দিয়ে ঘেরাও করার কাজ করা হয়। কিন্তু ওই চক্রটি সংঘবদ্ধভাবে হামলা করে বেড়া ভাংচুর করেছে এবং গতকাল রাত্রে পাম্পের অনেক কিছু লুটপাট করে নিয়ে যায় ও পেছনের একটি দেওয়ালও ভেঙে ফেলে। আরো দেখা যায়, আমাদের বিদ্যুতের তার, লাইটের তার, সিসি ক্যামেরার তার ছিঁড়ে ফেলে। একইসাথে চক্রটি বিভিন্ন ফেসবুক পেজ এবং নিজেদের আইডিতে বিভ্রমূলক প্রপাগাণ্ডা ছড়াচ্ছে। ঘটনাটি অবগত হয়ে সদর থানার পুলিশের দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। একইভাবে চক্রটি সাংবাদিকদের মিসগাইড করে নানা ধরণের মিথ্যা প্রপাগাণ্ডা ছড়াচ্ছেন।
এই বেলায়েত এবং সোহেলদের দ্বারাই পরবর্তী আগুনটা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। সেই জন্য ওদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ঘটনার অনেক গোপনীয় রহস্য বের হতে পারে। এই বিষয়ে তদন্ত কমিটির প্রধান ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসিকে লিখিতভাবে অবহিত করা হবে।
পরিশেষে আমি দৃঢ়ভাবে বলছি, পরিবেশ অধিদপ্তর, বিস্ফোরক অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের প্রয়োজনীয় সব লাইসেন্স ও অনুপতিপত্র নিয়ে দুর্ঘটনার শিকার 'কক্সবাজার এলপিজি স্টেশনটি' সম্পূর্ণ বৈধপন্থায় যাত্রা করা হয়। তার সব কাগজপত্র আমি তদন্ত কমিটির কাছে হস্তান্তর করেছি। এছাড়া সকলের জ্ঞাতার্থে প্রকাশ করছি।
কিন্তু কিছু সাংবাদিক ভাই ও সাধারণ লোকজন তথ্য অবগত না হয়ে এই গ্যাস পাম্পটি অবৈধ বলে প্রচার করছে-এটা সত্য নয়। পরিশেষে আহত হয়ে পবিত্র রমজানে হাসপাতালে যন্ত্রণায় কাতরানো মানুষগুলোর জন্য সবাই দোয়া করবেন। আমি তাদের পাশে আছি।
এইচ এম নুরুল আলম (এন আলম)
স্বত্বাধিকারী, দুর্ঘটনার শিকার 'কক্সবাজার এলপিজি স্টেশন।



