নামি-দামি ব্রান্ড না হয়েও চমকপ্রদ বিজ্ঞাপন দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে আব্বাজান; ঠকছে ক্রেতারা
Wednesday, March 11, 2026
বিশেষ প্রতিবেদক ::
নামি-দামি ব্রান্ডের মতো জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা বড় কোন প্রতিষ্ঠান না হয়েও অনেকটা 'নিজে মাইক নিজে ব্যাটারি' প্রথা সরূপ চমকপ্রদ বিজ্ঞাপন দিয়ে শোরুম প্রতারণার ফাঁদ বসিয়েছে “আব্বাজান" পাঞ্জাবি এন্ড শেরওয়ানি”।
কক্সবাজার শহরের বাজারঘাটাস্থ নিউ মার্কেটে অবস্থিত এই শোরুমে পর্যটকসহ সাধারণ ক্রেতাদের ঠকানো হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
যেখানে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে নিম্নমানের কাপড় এনে নিজস্ব প্রোডাক্ট বলে চালিয়ে দিচ্ছে চক্রটি। আর নিজদের স্টিকার লাগিয়ে চড়া দামে সেই কাপড় বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। বিশেষ করে অতিরিক্ত দামের পাশাপাশি ভারতীয় কাপড়ের লেভেল ব্যবহার করে বাংলাদেশী পন্য বিক্রির অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, আব্বাজানের মালিক থেকে শুরু করে প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগ স্টাফ ক্রেতাদের সাথে দুর্ব্যবহার করেন।
জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৮ মার্চ কক্সবাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে আব্বাজান পাঞ্জাবি এন্ড শেরওয়ানি দোকানকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ লঙ্ঘনের দায়ে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, দোকানটিতে পণ্যের মানের তুলনায় দাম অতিরিক্ত বৃদ্ধি করে বিক্রি করা।
সাধারণ ভোক্তাদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিতর্কিত আব্বাজান শোরুমে আবারও ভোক্তার অভিযান এখন সময়ের দাবীতে পরিনত হয়েছে।
যদিও নিজেদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সত্য নয় দাবী করেছেন আব্বাজানের স্বত্বাধিকারী জাহাঙ্গীর আলম।
অন্যদিকে জনপ্রিয় পাঞ্জাবি ব্র্যান্ড “রাজস্থান” এর আদলে বিভ্রান্তিকর ব্র্যান্ডিং ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে আব্বাজানের বিরুদ্ধে।
অভিযোগকারীদের দাবি, প্রতিষ্ঠানটি সরাসরি হুবহু কপি না করলেও রাজস্থান ব্র্যান্ডের আরবি স্টাইলের লোগো, সাইনবোর্ডের ডিজাইন, প্রাইস ট্যাগের রং ও বিন্যাস, পণ্যের মোড়ক এবং সামগ্রিক ব্র্যান্ডিং স্টাইলসহ সবকিছু প্রায় একই রকম রেখে নিজেদের নাম ব্যবহার করছে।
ফলে দূর থেকে বা প্রথম নজরে অনেক ক্রেতার কাছে এটি রাজস্থান ব্র্যান্ডের দোকান বা পণ্য বলে মনে হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, এভাবে একটি স্বনামধন্য ব্র্যান্ডের সঙ্গে মিল রেখে ব্র্যান্ডিং তৈরি করে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং সেই সুযোগে স্থানীয়ভাবে তৈরি পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে।
এদিকে সাধারণ ক্রেতাদের দাবি, এ বছরেও ঈদকে সামনে রেখে একই ধরনের কৌশলে পণ্যের দাম নির্ধারণ করে ক্রেতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে। তাই বিষয়টি পুনরায় তদন্ত করে ভোক্তা অধিকার আইনের আওতায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।
অন্যদিকে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কক্সবাজারের সহকারী পরিচালক হাসান আল মারুফ জানান, পন্যের মানের চেয়ে অতিরিক্ত দাম রাখার অপরাধে তাদেরকে এর আগেও জরিমানা করা হয়েছিল। এবারও ভুক্তভোগী ক্রেতাদের অভিযোগ প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।



