মাদকের টাকায় মুরগী বেপারী থেকে কোটিপতি খুটাখালীর জামাল

বিশেষ প্রতিবেদক : এক সময় ২০ জনের শেয়ারে ফার্মের মুরগীর ব্যবসা করতেন কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ১নং ওয়ার্ডের উত্তর মেধাকচ্ছপিয়া এলাকার বাসিন্দা জামাল উদ্দিন। সামান্য মুরগী বিক্রেতা থেকে মাদকের টাকায় এখন রাতারাতি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন তিনি। এর পেছনে টেকনাফ থেকে ইয়াবা পাচারকেই প্রধান মাধ্যম বলে ধারণা করছেন গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন। জনশ্রুতি রয়েছে, খুটাখালীর এক সময়ের সাধারণ মুরগী ব্যবসায়ী জামাল উদ্দিনের হঠাৎ সম্পদ বৃদ্ধির পেছনে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাম্প্রতিক তদন্তে জানা গেছে, মুরগী ব্যবসার আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে তিনি ইয়াবা পাচারের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। বিশেষ করে টেকনাফ থেকে মুরগী আনার সুযোগে মুরগীর পেটের ভেতর করে কৌশলে ইয়াবা আনা শুরু করেন জামাল। এভাবেই রাতারাতি কোটিপতি বনে যান দিনমজুর শ্রমিক বাবা জয়নাল আবেদীনের ছেলে জামাল। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক দশক আগে ছোট পরিসরে মুরগী বিক্রির মাধ্যমে তার ব্যবসা শুরু হয়। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই তার জীবনযাত্রায় আসে আমূল পরিবর্তন। কোটি টাকা ব্যয়ে গড়ে ওঠে আলিশান বাড়ি, জমি এবং বিলাসবহুল গাড়ির মালিকানা। যা নিয়ে এলাকায় শুরু হয় নানা গুঞ্জন। গোপন সংবাদে জানা যায়, সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করেন এই জামাল। বিশেষ সূত্র জানায়, মুরগীর খামার এবং পরিবহন ব্যবস্থাকে তিনি ইয়াবা পাচারের আড়াল হিসেবে ব্যবহার করতেন। নিয়মিত মুরগী সরবরাহের ট্রাকেই লুকিয়ে বিভিন্ন স্থানে মাদক পাঠানো হতো, যা শনাক্ত করা কঠিন ছিল। মাদক পাচারের মাঠে অনেকটা কৌশলী হওয়ায় ইতিপূর্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হননি তিনি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, জামাল মুরগী ব্যবসার আড়ালে মাদকের ব্যবসা করছেন, সে এত বড় মাদক চক্রের সঙ্গে জড়িত হয়ে গেছে যা কল্পনাও করেননি এলাকাবাসী। জানা গেছে, জামালের মাদক কারবারের প্রধান সহযোগী হলো উখিয়ার থাইংখালী এলাকার একজন ইউপি সদস্য। সেই মেম্বারের পার্টনার হয়ে রমরমা মাদক ব্যবসা চালাচ্ছেন জামাল। শুধু তাই নয়, এক সময় যার নুন আনতে পান্তা পুরাতো সেই জামালের এখন মুরগী বহনের গাড়ি, চারটি নোহা, একটি প্রাইভেট কার, দামী মোটর সাইকেলসহ বিলাশ বহুল বাড়ি রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং জামালকেও তদন্ত সাপেক্ষে আইনের আওতায় আনা হবে। সচেতন মহলের অভিমত, এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে, দ্রুত ধনী হওয়ার পেছনে অনেক সময় লুকিয়ে থাকে অপরাধের অন্ধকার গল্প। এ বিষয়ে মাদক কারবারে অভিযুক্ত মুরগী ব্যবসায়ী জামাল উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি লোনের টাকায় মুরগী ব্যবসা করছেন বলে জানান। আর রাতারাতি দামি গাড়ি এবং অর্ধকোটি টাকায় নির্মিত বাড়ি কিভাবে হলো সেই প্রশ্ন এড়িয়ে গেলেও অপর প্রশ্নের জবাবে ওপার থেকে ফোনের সংযোগ কেটে দেন জামাল।