শিশুর অধিকার কোথায়? উখিয়ার ঘটনায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ
Sunday, April 12, 2026
শফিউল শাহীন, কক্সটিভি
বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ৯ বছরের নিচে কোনো শিশুর কর্মকাণ্ড অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় না। এটি শুধু আইনের একটি ধারা নয়, বরং একটি মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রতিফলন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে উখিয়ায় ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক একটি ঘটনা সেই মৌলিক নীতিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
অভিযোগ উঠেছে, উখিয়া থানা পুলিশের মাধ্যমে মাত্র ৬ বছরের এক শিশুকে তার গ্রেফতারকৃত মায়ের সঙ্গে দীর্ঘ সময় থানার হাজতে রাখা হয় এবং পরবর্তীতে আদালতে প্রেরণ করা হয়। একটি নিষ্পাপ, অবুঝ শিশুকে এমন পরিস্থিতির মধ্যে ফেলা শুধু আইনের সুস্পষ্ট পরিপন্থী নয়, এটি মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন এবং আমাদের সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধের উপর এক গভীর আঘাত।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দায়িত্ব শুধু আইন বাস্তবায়ন নয়; বরং সেই আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে মানবিকতা, সংবেদনশীলতা এবং দায়িত্ববোধের পরিচয় দেওয়া। বিশেষ করে শিশুদের মতো দুর্বল ও অসহায় জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে এই দায়িত্ব আরও বেশি। কিন্তু এ ধরনের ঘটনা প্রমাণ করে, কোথাও না কোথাও সেই মানবিক বোধের ঘাটতি রয়ে গেছে।
একটি শিশুর মানসিক বিকাশ, নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। থানার মতো ভীতিকর পরিবেশে একটি শিশুকে আটকে রাখা তার মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে—যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
এই ঘটনাটি শুধু একটি বিচ্ছিন্ন অনিয়ম নয়; এটি আমাদের আইন প্রয়োগ প্রক্রিয়ার দুর্বলতা ও সংবেদনশীলতার অভাবের একটি প্রতিচ্ছবি। তাই এখনই প্রয়োজন—ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা আর না ঘটে, সে জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ।
জাতি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছ থেকে দায়িত্বশীল, মানবিক ও ন্যায়নিষ্ঠ আচরণ প্রত্যাশা করে। একটি নিরীহ শিশুকে ঘিরে এমন অমানবিক আচরণ কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না—এটাই হোক আমাদের সম্মিলিত অবস্থান।



