কক্সবাজারের নাফ নদী সীমান্তে সশস্ত্র রোহিঙ্গা গোষ্ঠীর গু'লি'বর্ষণ ও জেলেদের নৌকা ছিনতাই; দুই রোহিঙ্গা জেলে আটক

বিশেষ প্রতিবেদক : টেকনাফ সীমান্তের নাফ নদীতে একটি নৌকা ধাওয়া করে ফাঁকা গুলি ছুঁড়েছে রোহিঙ্গা ডাকাত দল। এর জবাবে ডাকাত দলকে লক্ষ্য করে ৫ রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে বিজিবি। এসময় দুই রোহিঙ্গা ডাকাতকে আটক করে বিজিবি। এসময় নাফ নদী থেকে দুই রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়। শনিবার বিকেলে উখিয়া ব্যাটালিয়ন ৬৪ বিজিবির অধীনস্থ হ্নীলা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার কাব্যিক চর নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে। বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেল পৌনে ছয়টার দিকে হ্নীলা বিওপির সীমান্ত পিলার বিআরএম-১৩ থেকে আনুমানিক ৬০০ গজ উত্তর-পূর্ব দিকে দুই জন রোহিঙ্গা জেলেসহ একটি নৌকা সুলিশপাড়া বেড়িবাঁধ সংলগ্ন ব্রিজের দিকে যাচ্ছিল। এসময় পেছন থেকে তিনজন রোহিঙ্গা ডাকাত দলের একটি নৌকা তাদের ধাওয়া করে স্লুইস গেইটের কাছে থামার সংকেত দেয়। কিন্তু জেলেদের নৌকাটি না থামানোয় রোহিঙ্গা ডাকাত দল ১ রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে। গুলির শব্দে আতঙ্কিত হয়ে দুই রোহিঙ্গা জেলে নৌকা থেকে নাফ নদীর পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে। গুলির আওয়াজ শুনে হ্নীলা বিওপির বিজিবির একটি নিয়মিত টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে এগিয়ে যায়। বিজিবি সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত দলের নৌকাটি বেড়িবাঁধ থেকে প্রায় ২০০ মিটার নাফ নদীর ভেতরে চলে যায়। এসময় বিজিবি টহল দল দুই রোহিঙ্গা জেলেকে আটক করে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও বিজিবি জানায়, ঈদের ছুটির কারণে ওই সময়ে সুলিশপাড়া বেড়িবাঁধের ওপর প্রচুর দর্শনার্থী ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। ফলে বিজিবি তাৎক্ষণিকভাবে পাল্টা গুলি চালানো থেকে বিরত থাকে, যাতে ডাকাত দলের ফিরতি গুলিতে সাধারণ বেসামরিক মানুষ হতাহত না হন। পরবর্তীতে ডাকাত দলের নৌকাটি সুলিশপাড়া হয়ে বিওপির সামনে দিয়ে পুনরায় চর কাব্যিকের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে বিজিবি জোরালো ধাওয়া করে এবং ডাকাত দলকে লক্ষ্য করে ৫ রাউন্ড গুলি বর্ষণ করে। বিজিবির মারমুখী অবস্থানের মুখে ডাকাত দল চর কাব্যিকের গহীন এলাকায় পালিয়ে যায়। উপস্থিত দর্শনার্থীদের বরাতে আরও জানা গেছে, আটককৃত রোহিঙ্গাদের নৌকা থেকে ডাকাত দল জাল সদৃশ কিছু বস্তু নিজেদের নৌকায় তুলে নেয় এবং নৌকাটি নাফ নদীর প্রায় ১০০-১৫০ মিটার ভেতরে নিয়ে পানিতে ডুবিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। আটক ব্যক্তিরা হলেন, কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৫, ব্লক-২ এর জমির হোসেনের ছেলে ইমাম হোসেন এবং জোহাত ক্যাম্প-৪, ব্লক-বি এর মো. আলীর ছেলে মো. নুরুল আমিন। বিজিবির প্রাথমিক মূল্যায়নে ধারণা করা হচ্ছে, আটককৃত রোহিঙ্গারা মূলত: মাদক পাচারের উদ্দেশ্যে চর কাব্যিক এলাকায় অবস্থান করছিল। পরবর্তীতে রোহিঙ্গা ডাকাত দল তাদের মালামাল ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে ধাওয়া করে এবং জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়। আটক রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন উখিয়া ব্যাটালিয়ন ৬৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফ্টেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম।