নিয়মিত নয়, চট্টগ্রাম থেকে মাঝে মাঝেই কর্মস্থলে আসেন চিকিৎসক সুচন্দা দাশ!

বাবুল মিয়া মাহমুদ, কক্সটিভি :: কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই কিছু অনিয়ম যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শুণ্য পদের সংখ্যা অর্ধেকের বেশি হওয়ার পরও যারা কর্মরত আছেন তাদের অধিকাংশই কর্মস্থলে উপস্থিত থাকেন মাসে কয়েকদিন কিংবা কেউ কেউ আসেন সপ্তাহে দুই/একদিন। কক্সটিভি'র অনুসন্ধানে উঠে আসে অনিয়মকে নিয়মে পরিণত করা এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য। দীর্ঘদিন ধরে পর্যবেক্ষণের পর দেখা যায়, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত গাইনীর বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা: সুচন্দা দাশ সব সময় সপ্তাহে শনিবার আসেন রবিবার চলে যান চট্টগ্রাম। সপ্তাহের অন্যদিনগুলো অবস্থান করেন না কক্সবাজার কিংবা যান না মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও। তাহলে কিভাবে তার কর্মস্থলে উপস্থিত দেখানো হয় এমন প্রশ্ন অভিজ্ঞ মহলের। কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাথে জেলা সদর হাসপাতাল সংযুক্ত কর্মস্থল হওয়ায় মেডিকেল কলেজের শিক্ষকরাই মূলত: বিশাল জনগোষ্টির জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা ও অপারেশন করে থাকেন। কিন্তু কতিপয় সিনিয়র ডাক্তাররা সপ্তাহে ১/২ দিন আসায় বিশেষ করে গাইনী রোগীদের পড়তে হয় মারাত্মক বিপাকে এক বুক আশা নিয়ে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি হলেও রাত গভীর হলেই সিজারের জন্য আসা রোগীদের করা হয় রেফার। গভীর রাতে পথ হারা প্রতিকের মতো অসহায় মানুষ গুলোকে বাধ্য হয়ে প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করাতে গিয়ে বিশাল টাকা খরচের বুঝায় হিমসিম খেতে হয়। কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পর্যাপ্ত গাইনী ডাক্তার না থাকার পরও সপ্তাহে ১/২ দিন কর্মস্থলে আসাটা নিয়মে পড়ে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে সহকারী অধ্যাপক ডা: সুচন্দা দাশ তার স্যারের সাথে কথা বলবেন বলে আমার সাথে এ বিষয়ে কথা বলতে চাননা বলে জানান, সহকারী অধ্যাপক ডা: সুছন্দা দাশের বিষয়ে জানতে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা: সোহেল বকসকে ফোন দিলে তিনি কল রিসিভ না করায় ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপে এ সংক্রান্ত একটি ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও কোন জবাব না দেয়ায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। তবে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের শিক্ষকদের কর্মস্থল যেহেতু জেলা সদর হাসপাতাল সেহেতু জানতে চাইলে জেলা সদর হাসপাতালের দায়িত্বরত সুপার মং টিন ঞো এসব বিষয়ে মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন। এদিকে সপ্তাহে ১/২ দিন কর্মস্থলে আসাটা নিয়মে পড়ে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) মিজবাহ উদ্দীন আহমদ বলেন, এটা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধান আমাদের কাছে অভিযোগ করলে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নিব। অন্যদিকে বিশ্বস্ত একটি গোপনসূত্র জানায়, পত্রিকায় নিউজ করলেও কিছু হবে না কারণ বায়োমেট্রিক হাজিরায় প্রতিদিন উপস্থিত দেখানোর ব্যবস্থা করেছেন অভিযুক্ত এই চিকিৎসক। তাছাড়া এমনিতেই চট্টগ্রামে বদলী হতে চান ডা: সুচন্দা। কারণ তার প্রাইভেট চেম্বার চট্টগ্রামে। এই যখন অবস্থা তখন, সচেতন মহলের প্রশ্ন, প্রতিষ্ঠান প্রধানকে ম্যানেজ করেই এভাবে অনিয়মকে নিয়মে পরিণত করাটা দুঃখজনক। এ সকল অভিযোগ বিষয়ে তদন্তপুর্বক কতৃপক্ষের যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া উচিত বলে মনে করেন স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা।