ইয়াবা কারবারীদের সঙ্গে আঁতাত করে মামলার চার্জশীট; উখিয়া থানার এসআই মিজানের বিরুদ্ধে অভিযোগ
Wednesday, May 13, 2026
বিশেষ প্রতিবেদক :
কক্সবাজারের উখিয়া থানার সাব-ইন্সপেক্টর মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে ইয়াবা কারবারীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে একটি মামলার তদন্তে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে মামলার গুরুত্বপূর্ণ ও কঠোর ধারাগুলো বাদ দিয়ে আদালতে দুর্বল চার্জশীট দাখিল করেছেন তিনি। ঘটনাটি স্থানীয় জনমনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
জানা যায়, এক সংবাদকর্মী দীর্ঘদিন ধরে উখিয়ায় চলমান ইয়াবা ব্যবসা, মাদক সিন্ডিকেট ও কারবারীদের অপকর্ম নিয়ে ধারাবাহিকভাবে সংবাদ প্রকাশ করে আসছিলেন। তার প্রকাশিত সংবাদে ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্ত ইয়াবা কারবারীরা সংঘবদ্ধভাবে ওই সংবাদকর্মী ও তার পরিবারের ওপর হামলা চালায়। হামলার সময় সংবাদকর্মী, তার মা ও ভাইদের মারধর করা হয়। একইসঙ্গে তার ব্যবহৃত গাড়ি ভাঙচুর করে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়ার মত ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে উখিয়া থানার একটি পুলিশ টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পরিদর্শন করে এবং আহতদের উদ্ধার করে। স্থানীয় সূত্র জানায়, পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলের ভিডিওচিত্রও ধারণ করেছিলেন, যা ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে বিবেচিত।
এ ঘটনায় গত ২২ ফেব্রুয়ারি ভুক্তভোগী সংবাদকর্মী বাদী হয়ে উখিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-১০২/২৬ এর তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পান এসআই মিজানুর রহমান। তবে তদন্তের এক পর্যায়ে তিনি অভিযুক্ত ইয়াবা কারবারীদের সঙ্গে গোপন সমঝোতায় জড়িয়ে পড়েন এবং মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে মামলার প্রকৃত ঘটনা আড়ালের চেষ্টা করেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, ঘটনার ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য এবং বিভিন্ন প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও তদন্ত কর্মকর্তা ইচ্ছাকৃতভাবে মামলার গুরুত্বপূর্ণ ধারাগুলো বাদ দেন। পরবর্তীতে সাধারণ ও দুর্বল কিছু ধারা সংযুক্ত করে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেছেন, যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ভুক্তভোগীর পরিবার।
ভুক্তভোগী সংবাদকর্মী আতিকুর রহমান বলেন,
“আমি ইয়াবা ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় পরিকল্পিতভাবে হামলার শিকার হয়েছি। ঘটনার সব প্রমাণ থাকার পরও তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মিজান অপরাধীদের রক্ষার চেষ্টা করেছেন। তিনি আমার কাছেও আর্থিক সুবিধা চেয়েছিলেন। আর্থিক সুবিধা না দেওয়ায় তিনি অভিযুক্তদের পক্ষ নিয়ে মামলার মূল ধারাগুলো বাদ দিয়েছেন।”
তিনি আরও বলেন, একজন তদন্ত কর্মকর্তার কাজ হলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা। কিন্তু এখানে উল্টো অপরাধীদের বাঁচাতে তদন্তকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা হয়েছে। এতে আমরা চরমভাবে হতাশ ও ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত।”
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, এসআই মিজানের বিরুদ্ধে এর আগেও নানা অনিয়ম, ঘুষ বাণিজ্য ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মত গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, উখিয়ার থ্যাংখালী মরাগাছতলা এলাকার ফরিদ নামের এক ব্যক্তিকে দুই লাখ টাকার বিনিময়ে অস্ত্র মামলায় ফাঁসিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্ত্রী সেলিনা আক্তার পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বলেও জানা গেছে।
এসআই মিজানের ঘটনাগুলো নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন—যদি তদন্ত কর্মকর্তা নিজেই অভিযুক্তদের সহযোগী হয়ে ওঠেন, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় পাবে সঠিক বিচার ও আইনের আশ্রয়?
এবিষয়ে অভিযুক্ত মিজানের সাথে যোগাযোগ করা হলে বলেন, তদন্ত করে যা পেয়েছি তা দিয়েছি। অন্য অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করলে ব্যস্ত থাকার কথা বলে ফোনের সংযোগ কেটে দেন।
ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে পুলিশ সুপারকে বিষয়টা অবগত করার পরামর্শ দেন উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মজিবুর রহমান।



