রামুতে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী কাশেমের বেপরোয়া ইয়াবা কারবার, ধ্বংসের মুখে যুবসমাজ
Tuesday, June 16, 2026
রামু প্রতিনিধি।
কক্সবাজারের রামু উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের পূর্ব মেরংলোয়া এলাকায় দিন-রাত প্রকাশ্যে চলছে সর্বনাশা মাদক ইয়াবার রমরমা বেচাকেনা। স্থানীয় বাসিন্দা ফরিদ আহমদের ছেলে আবুল কাশেম দীর্ঘদিন ধরে এই মাদক সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধরা পড়লেও, প্রতিবারই জামিনে বেরিয়ে এসে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে এই মাদক কারবারি। ফলে এলাকার সাধারণ মানুষ ও যুবসমাজ চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, অভিযুক্ত কাশেম এখন আর একা নয়, বরং এলাকায় একটি সুসংগঠিত সিন্ডিকেট তৈরি করেছে। ইয়াবা বেচাকেনা ও ক্রেতাদের হাতে মাদক পৌঁছে দেওয়ার জন্য সে দৈনিক নির্দিষ্ট বেতনে কয়েকজন তরুণ ও যুবককে কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। এই বেতনভুক্ত যুবকরাই সার্বক্ষণিক কাশেমের বাড়ির আশেপাশে অবস্থান নিয়ে মাদক সরবরাহের কাজ তদারকি করে।
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, কাশেমের বাড়ির সামনের চিত্র দেখলে মনে হয় কোনো ব্যস্ত স্টেশন। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা সেখানে সারি সারি টমটম, ইজিবাইক ও অটো-মিশুক গাড়ির লাইন লেগে থাকে। চালক ও বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মাদকসেবীরা সেখানে প্রকাশ্যেই ইয়াবা কেনাবেচা করে। এতে এলাকার স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও যুবসমাজ চরম নৈতিক অবক্ষয়ের মুখে পড়েছে।
সম্প্রতি স্থানীয় এলাকাবাসী বেশ কয়েকজন মাদকসেবীকে ইয়াবাসহ হাতে-নাতে আটক করে। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, আটককৃত মাদকসেবীরা অকপটে স্বীকার করছে যে তারা এই ইয়াবা আবুল কাশেমের কাছ থেকে সেবনের জন্য কিনেছে। এই ঘটনার পর থেকে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। এলাকার সচেতন মহলের প্রশ্ন বার বার ধরা পড়ার পরও কাশেম কীভাবে এত নির্বিঘ্নে এই নিষিদ্ধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে?
এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, কাশেম একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তাকে এর আগেও একাধিকবার মাদক মামলায় আমরা চালান করেছি। কিন্তু আদালত থেকে জামিনে বের হয়ে সে আবারও একই অপরাধে লিপ্ত হয়। সে মাদক বিক্রি করে এলাকার যুবসমাজ ধ্বংস করছে এই তথ্য আমাদের কাছেও আছে। তাকে অচিরেই আইনের আওতায় আনতে আমরা বিভিন্ন কৌশল ও পরিকল্পনা করছি।
স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে এই চিহ্নিত মাদক কারবারি কাশেম এবং তার দৈনিক বেতনভুক্ত সহযোগীদের দ্রুত গ্রেফতার করে মেরংলোয়া এলাকাকে মাদকমুক্ত করার জন্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।



