সিঙ্গাপুর, কানাডা নয়, ‘একটু বেটার বাংলাদেশ’ গড়তে চান প্রধানমন্ত্রী

বিশেষ প্রতিবেদক : সিঙ্গাপুর, কানাডা নয়, ‘একটু বেটার বাংলাদেশ’ গড়তে চান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ জন্য তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। শনিবার রাতে কক্সবাজারের কলাতলীতে তারকা হোটেল লং বিচের বলরুমে আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে ভাল কিছু করতে হলে ‘‘যদি আমাদেরকে করতে হয় সরকারের একার পক্ষে হয়ত সম্ভব নয়। সেটা আমাদের সবাইকে মিলে করতে হবে।” কক্সবাজার শহরকে পরিচ্ছন্ন নগরী করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘কক্সবাজার শহরের প্রবেশের সময় একটি বিরাট বড় সাইনবোর্ড দেখেছি, ওখানে লেখা আছে ওয়ার্ল্ডের সবচেয়ে দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত…স্যান্ডি সিবিচ…। ‘‘আপনারা সকলে মিলে কক্সবাজারকে প্রতিনিধিত্ব করছেন সেই কক্সবাজারকে যদি তুলে ধরতে হয় তাহলে আপনাদের সকলকে কিন্তু এগিয়ে আসতে হবে। আপনারা কক্সবাজারকে পরিচ্ছন্ন একটি নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে পারেন।” তিনি বলেন, ‘‘শুধু তাই নয়, কক্সবাজারকে আপনারা খুব সুন্দর শৃঙ্খল একটি শহর হিসেবে গড়ে তুলতে পারেন, যেখানে সবগুলো যান শৃঙ্খলার মধ্যে থাকবে, সুন্দরভাবে পার্কিং করবে, সুন্দরভাবে চলাচল করবে, ট্রাফিক নিয়মে চলবে। ‘‘যেখানে মানুষ হাটার সময় নিরাপদ বোধ করবে।” গত ১৭ বছর কেন কক্সবাজারের কেন উন্নয়ন হয়নি তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সরকার প্রধান। ‘‘আমি দেশে ফেরত আসার পরে গত সাড়ে চার মাসে আমি বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় গিয়েছি এবং বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে আমার কাছে মনে হয়েছে যেই কাজগুলোর কথা বলা হচ্ছে, এই কাজগুলো ১৭ বছর হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু হয়নি ১৭ বছর। ‘‘সেজন্যই যে কথাটি আমি বোঝাতে চাইছি আপনাদেরকে সেটি হচ্ছে, দেখুন আমাদের অনেক কাজ জমে গিয়েছে। দেশকে পরিবর্তন করতে হলে দেশকে একটি ভালো জায়গায় নিয়ে যেতে হলে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে হলে আমাদের অনেকগুলো কাজ করতে হবে।” কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে রূপান্তর করা, মেরিন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করার কথাও বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, পাবর্ত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মো. হেলাল, বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমসহ সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিনী জুবাইদা রহমান, সালাহউদ্দিন আহমেদের সহধর্মিনী হাসিনা আহমদও ছিলেন। পরে প্রধানমন্ত্রী নিজে গাড়ি চালিয়ে মেরিন ড্রাইভ সড়ক ঘুরে দেখেন। সেখান থেকে রাত সোয়া ১২টার দিকে বিমানবন্দরে থেকে ফ্লাইটে ঢাকার পথে রওনা দেন।