কক্সবাজার শহরের টেকপাড়ায় ছুরিকাঘাতে নারীর মৃত্যু
Tuesday, June 09, 2026
বিশেষ প্রতিবেদক কক্সটিভি :
কক্সবাজার শহরের টেকপাড়া এলাকায় ছুরিকাঘাতে সানজিদা রেশমি নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার মধ্যরাতে সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, নিহত সানজিদা আক্তার রেশমি একটি মুদির দোকান থেকে বাজার করতেন। বকেয়া খাতায় কেনাকাটার সুবাদে ওই দোকানের ব্যবসায়ী শফিউল আলম সওদাগরের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে বলে স্থানীয়রা জানান।
বিষয়টি জানতে পেরে পেশকারপাড়ার বাসিন্দা শফিউল আলম সওদাগরের স্ত্রী ইয়াসমিনসহ আরও পাঁচ নারী সানজিদার বাসায় যান। সেখানে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে সানজিদাকে ছুরিকাঘাত করা হয়।
এসময় সানজিদা ও তার ১২ বছর বয়সী ছেলে সাব্বির চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে অভিযুক্তদের আটক করে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় সানজিদাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহতের বাসার গৃহকর্মী আনোয়ারা বেগম জানান, খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তার দাবি, সানজিদার সাবেক স্বামী ইমন কন্ট্রাক্টর পরবর্তীতে পেশকারপাড়ার পারভিন আক্তার নামে এক নারীকে বিয়ে করেন। ওই নারীর প্ররোচনায় কয়েকজন নারী এসে সানজিদাকে ছুরিকাঘাত করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নিহতের ছেলে সাব্বির কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানায়, ঘটনার সময় তার মা এবং সে বাসায় ছিলো। এছাড়া দুইজন পুরুষও আগে থেকেই সেখানে অবস্থান করছিলেন। তাদের মধ্যে একজন শফিউল আলম সওদাগরকে সে চিনতে পারলেও অপরজনকে চিনতে পারেনি। এক পর্যায়ে পেশকারপাড়ার পাঁচ নারী এসে তার মায়ের ওপর হামলা চালিয়ে ছুরিকাঘাত করেন।
প্রতিবেশী সোহাগ জানান, চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে অভিযুক্ত নারী ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রধান অভিযুক্ত ইয়াসমিনকে আটক করে। এসময় ইয়াসমিনকে পুলিশ নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে নিজেই এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে জানান।
স্থানীয়রা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানান।
হাসপাতালে নিহতের সাবেক স্বামী ইমন কন্ট্রাক্টর বলেন, ঘটনার বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না। খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে এসে স্ত্রীকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন। তাদের একটি সন্তানও রয়েছে। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এস.আই) সুমন চন্দ্র সরকার বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তিনজনকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।



