কক্সবাজারে লাইফগার্ড সংকট: সাগরে ডুবে মৃত্যু বাড়লেও নেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা
Sunday, July 05, 2026
কক্সটিভি নিউজ ডেস্ক::
বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারে প্রতিবছর লাখো পর্যটকের সমাগম হলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে পর্যাপ্ত লাইফগার্ড না থাকায় সাগরে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা বাড়লেও বিস্তীর্ণ সৈকতজুড়ে কার্যকর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কক্সবাজারের প্রায় ১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্রসৈকতের অধিকাংশ এলাকায় নিয়মিত লাইফগার্ড সেবা নেই। পর্যটকদের ভিড় বেশি থাকা সীমিত কয়েকটি পয়েন্টে লাইফগার্ড মোতায়েন থাকলেও সৈকতের বিশাল অংশ কার্যত অরক্ষিত। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নামা পর্যটকদের দুর্ঘটনায় পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রের রিপ কারেন্ট (প্রবল স্রোত), গুপ্তখাল, বড় ঢেউ এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সতর্কবার্তা অমান্য করে গোসলে নামার কারণে দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়ছে। অনেক পর্যটক লাল পতাকা ও নিরাপত্তা নির্দেশনা উপেক্ষা করায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে।
লাইফগার্ড কর্মীরা জানান, প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটককে সতর্ক করার পাশাপাশি বিপদে পড়া অনেককে উদ্ধার করা হলেও জনবল ও সরঞ্জামের সীমাবদ্ধতার কারণে পুরো সৈকতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। তাদের দাবি, পর্যাপ্ত অর্থায়ন, প্রশিক্ষিত জনবল বৃদ্ধি এবং আধুনিক উদ্ধার সরঞ্জাম সরবরাহ করা হলে দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, কক্সবাজার দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্র হওয়ায় পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। লাইফগার্ড সেবা সম্প্রসারণ, পর্যবেক্ষণ টাওয়ার স্থাপন, বিপজ্জনক এলাকায় আরও সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড এবং মাইকিং জোরদারের দাবি জানান তারা।
এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সমুদ্রে গোসলের সময় সতর্কতা মেনে চলা এবং নির্ধারিত নিরাপদ এলাকায় নামার জন্য পর্যটকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতে আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা না গেলে পর্যটকদের প্রাণহানির ঝুঁকি কমানো কঠিন হবে। তাই লাইফগার্ড সেবা সম্প্রসারণ, পর্যাপ্ত অর্থায়ন এবং সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।



