ফিফা প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি Cox.tv

কক্সটিভি প্রতিবেদক:: বেলজিয়ামের কাছে ৪-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে মাঠের সেই হার ছাপিয়ে এখন ফুটবল বিশ্বে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় মার্কিন স্ট্রাইকার ফোলোরিন বালোগানের লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা বাতিলের ঘটনা। এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রাজনৈতিক কোনো চাপ কাজ করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে এবার সরাসরি ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি তুলেছে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট। মঙ্গলবার ইউরোপীয় পার্লামেন্টের একদল আইনপ্রণেতা ফিফা প্রেসিডেন্টের ভূমিকা খতিয়ে দেখার জন্য বিশেষ তৎপরতা শুরু করেছেন। তারা ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত ২৭টি দেশের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে আহ্বান জানানো হয়েছে, ফিফার এই পক্ষপাতমূলক আচরণের বিরুদ্ধে যেন সবাই একজোট হয়ে আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নেয়। ইউরোপীয় নীতি নির্ধারকদের মতে, বিশ্বকাপ ফুটবলের স্বচ্ছতা ও সততা ধরে রাখতে ইউরোপের দেশগুলোর এখনই হস্তক্ষেপ করার এবং বালোগান মামলার সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়া নিয়ে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি তোলার উপযুক্ত সময়। ঘটনার সূত্রপাত গত সপ্তাহে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ম্যাচে, যেখানে বালোগান সরাসরি লাল কার্ড পেয়েছিলেন। নিয়ম অনুযায়ী বেলজিয়ামের বিপক্ষে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে তার মাঠের বাইরে থাকার কথা ছিল। কিন্তু নাটকীয় মোড় নেয় যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই ফিফা প্রেসিডেন্ট ইনফান্তিনোকে ফোন করার কথা স্বীকার করেন। ট্রাম্প সেই লাল কার্ডকে ‌‌‌‘অন্যায়’ বলে দাবি করার পরেই ফিফা এক অদ্ভুত আইনি ফাঁকফোকর ব্যবহার করে বালোগানের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে দেয়। বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে লাল কার্ড প্রথা চালুর পর থেকে এমন ঘটনা এটাই প্রথম। পরবর্তীতে ট্রাম্প ‘একটি বিশাল অন্যায়ের অবসান ঘটানোর জন্য’ ইনফান্তিনোকে ধন্যবাদও জানান। যদিও ইনফান্তিনো দাবি করেছেন ফিফার ডিসিপ্লিনারি বডি স্বাধীন, কিন্তু পুরো ঘটনাটি এখন গভীর সন্দেহের জন্ম দিয়েছে। ফিফার এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত ইউরোপজুড়ে তীব্র ক্ষোভের আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে। ইউরোপীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা উয়েফা এই ঘটনাকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করে বলেছে, ‘এটি একটি নজিরবিহীন, অবিশ্বাস্য এবং সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য ঘটনা।’ ম্যাচটি ৪-১ ব্যবধানে জিতলেও মাঠের বাইরের এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে নেমেছে বেলজিয়াম ফুটবল ফেডারেশন। তারা বালোগানের খেলার যোগ্যতা নিয়ে আনুষ্ঠানিক চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে। এমনকি ইউরোপীয় ইউনিয়নের ক্রীড়া বিষয়ক কমিশনার গ্লেন মিকালেফও ফিফার এই সিদ্ধান্তকে ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। হোয়াইট হাউজের রাজনৈতিক প্রভাবে ফুটবলের নিয়ম ভাঙার এ চেষ্টা শেষ পর্যন্ত কতদূর গড়ায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।