জাতীয় নির্বাচন বানচালে ইয়াবা কারবারি জনপ্রতিনিধির কোটি টাকার মিশন

বিশেষ প্রতিবেদক :: আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বানচাল করতে কোটি টাকার মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছে শক্তিশালী একটি চক্র। যে চক্রের সবাই আওয়ামী লীগ এবং দলটির সহযোগী সংগঠনের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, গুপ্ত সেই চক্রের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বোরহান উদ্দিন নামে একজন ইউপি সদস্য। যিনি জনপ্রতিনিধির আড়ালে ইয়াবা কারবারে জড়িয়ে রাতারাতি কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের রাজনীতির সাথেও বোরহান সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন বিগত ১৬ বছর। উখিয়া উপজেলার হলদিয়া পালং ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড পশ্চিম পাগলির বিল এলাকার আলী আহমদের পুত্র তিনি। এদিকে জ্ঞাতবহির্ভূত আয়ে রাতারাতি কোটিপতি বনে যাওয়ার পেছনের কারণ অনুসন্ধান শুরু করতে দুদকসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে জোর দাবী জানিয়েছেন মাদকবিরোধী সচেতন মহল। এদিকে জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণভাবে শেষ করতে সক্রিয়ভাবে মাঠে কাজ করছে যৌথ বাহিনী। ইতোমধ্যে জেলার বিভিন্ন জায়গায় ব্যাপক অভিযান চালিয়েছেন তারা। এসব অভিযানে দেশি-বিদেশি অবৈধ অস্ত্রসহ অসংখ্য চিহ্নিত সন্ত্রাসী এবং অপরাধী চক্রের সদস্যকে আটক করা হয়েছে। প্রাপ্ত অভিযোগে জানা গেছে, বিগত ১৬ বছর আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত থেকে ওই এলাকার সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদিসহ দলের অন্যান্য সব নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেন বোরহান। সেই সুযোগে মাদক কারবারে বেপরোয়া হয়ে ওঠেন হলদিয়া পালং ইউনিয়ন পরিষদের ২নং ওয়ার্ডের এই জনপ্রতিনিধি। যদিও মেম্বার নির্বাচিত হওয়ার আগে থেকে তিনি মাদক ব্যবসায় জড়িত বলে এলাকায় জনশ্রুতি রয়েছে। এমনকি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহুল আলোচিত সেই ইয়াবা তালিকায়ও শীর্ষ মাদক কারবারি হিসেবে নাম রয়েছে বোরহান মেম্বারের। তবে অপরাধের মাঠে অনেকটা কৌশলী হওয়ার সুবাধে মেম্বার বোরহানের বিরুদ্ধে মাদকের মামলা কিছুটা কম হলেও সংখ্যাটা একেবারেই যে শুন্যের কোটায় তা কিন্তু নয়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তার বিরুদ্ধে রয়েছে মামলা। অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২০ সালের ১৩ জুলাই ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানায় একটি মিনি ট্রাকসহ ৭ হাজার ২০০ পিস ইয়াবার চালান উদ্ধার করে ডিবি পুলিশ। ওই মামলায় এজাহারভুক্ত আসামী তিনি। ঢাকা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের এস.আই মোল্লা তৌহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে দায়ের করা ওই মামলার এজাহারে অপরাপর আসামীদের সাথে বোরহান মেম্বারকে ৭ নাম্বার আসামী হিসেবে উল্লেখ করা হয়। একই মামলায় অপরাপর অভিযুক্তরাও বোরহান মেম্বারের পার্টনার এবং কাছের মানুষ হিসেবে পরিচিত। এছাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত কথিত এনজিওকর্মী আরিয়ান মোহাম্মদ সাহাকে সাথে নিয়ে একটি শক্তিশালী মাদক কারবার সিন্ডিকেট গড়ে তোলে বোরহান। রোহিঙ্গা পিতার সন্তান আরিয়ান সাহা ক্যাম্প ভিত্তিক এনজিও কর্মকাণ্ডের আড়ালে ইয়াবা ব্যবসায় সক্রিয় হয়ে পড়েন। বোরহানের ইয়াবা মিয়ানমার থেকে দেশে ঢুকানোর পর প্রথমে ক্যাম্পের ভিতর মজুদ করে রাখে, সেখান থেকে আরিয়ান সাহার নেতৃত্বে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সেই মাদক বিভিন্ন জায়গায় পাচার করা হয়। এভাবেই প্রতিনিয়ত সারাদেশে মাদক ছড়িয়ে দিয়ে যুব সমাজ ধ্বংস করে দিচ্ছে বোরহান চক্র। প্রাপ্ত তথ্যে আরও জানা যায়, মিয়ানমারের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে বিপুল মাদকদ্রব্য বাংলাদেশে নিয়ে আসার পেছনে রয়েছে মিয়ানমারের ওই পাড়ের একটি শক্তিশালী চক্র। চক্রটি ইয়াবার চালানগুলো ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে গিয়ে রাতারাতি কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন বোরহান। মাদক বিক্রির সেই টাকায় পাগলির বিলে প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে বিশাল আলিশান বাড়ি নির্মাণ করেছেন তিনি। অথচ, বোরহান মেম্বারের দৃশ্যমান কোন আয়ের উৎস না থাকা স্বত্বেও কিভাবে দুই কোটি টাকায় বিলাসবহুল বাড়ি করেন সেই প্রশ্নের উত্তর জানার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। এছাড়া রামু এলাকার বাসিন্দা জনৈক নুরুচ্ছফার কাছ থেকে হলদিয়া পালং ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড পাগলির বিল এলাকায় প্রায় ১০ কানি জমি কিনেছেন মেম্বার বোরহান। যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় এক কোটি টাকা। এভাবে কালো টাকা সাদা করার কৌশল হিসেবে জ্ঞাত-অজ্ঞাত বহু সম্পদের মালিক হয়ে গেছেন তিনি। এই যখন অবস্থা তখনই প্রশ্ন ওঠে, আলাদীনের চেরাগের মতো রাতারাতি এতো টাকা পয়সা এবং সম্পদের মালিক বনে যাওয়া ইউপি মেম্বার বোরহান এখনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে কিভাবে ওপেন চলাফেরা করছে। সে ক্ষেত্রে টাকার বিনিময়ে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে ওপেন চলাফেরা করার তকমাও রয়েছে বোরহানের বিরুদ্ধে। একদিকে গণ অভ্যুত্থানে পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিস্ট সরকারের রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত থাকা অন্যদিকে তালিকাভুক্ত মাদক কারবারে অভিযুক্ত; সবমিলিয়ে লাগামহীন মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণকারী বোরহানকে দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসার জোরালো দাবী ওঠেছে। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বোরহান উদ্দিন মেম্বার বলেন, রাজনৈতিক এবং সামাজিক প্রতিপক্ষ তার বিরুদ্ধে এসব প্রপাগাণ্ডা ছড়াচ্ছে। তাছাড়া মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগও সত্য নয় বলে দাবী করেন তিনি।