কক্সবাজার সদরের বহুল আলোচিত শীর্ষ ইয়ায়া কারবারি দিদার ডাকাত অবশেষে পুলিশের হাতে গ্রেফতার

কক্সটিভি প্রতিবেদক : কক্সবাজার সদরের বহুল আলোচিত শীর্ষ মাদক কারবারি, বহু মামলার পলাতক আসামি ও আওয়ামী লীগ নেতা দিদারুল আলম দিদারকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে দিদারুল আলম দিদার দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ইয়াবা ও অন্যান্য মাদক ব্যবসার একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে আসছিল। তিনি ঝিলংজা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং সর্বশেষ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হন। থানা সূত্র জানায়, আটক দিদারুল আলম দিদার কক্সবাজার সদর উপজেলার খরুলিয়া দরগাহ পাড়ার বাসিন্দা। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি গোপনে মাদক ব্যবসা অব্যাহত রাখেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পুলিশের নথি অনুযায়ী, গত বছরের ২৪ জুলাই ২০২৫ তারিখে দিদারের ব্যবহৃত চট্টগ্রাম মেট্রো-চ ২৪৪৮ নম্বর নোহা গাড়িতে ইয়াবা পরিবহনের সময় অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানের সময় দিদার কৌশলে পালিয়ে গেলেও গাড়িতে থাকা নিরীহ এক নারী যাত্রীকে ১০ হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয়। যে ঘটনায় নিরপরাধ হওয়া স্বত্বেও দীর্ঘদিন অসুস্থ অবস্থায় কারাভোগ করে অসহায় সেই নারী। ওই সময় দিদারের গাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, তার ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন এবং প্রায় ৩৪টি সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত জব্দ সেই নোহা গাড়িটি কক্সবাজার সদর মডেল থানা হেফাজতে রয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দিদারের বিরুদ্ধে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লায় মাদক, অস্ত্র, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, হত্যা চেষ্টা ও অপহরণসহ মোট ১০টির বেশি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একাধিক মামলা আদালতে বিচারাধীন এবং কয়েকটি মামলা তদন্তাধীন অবস্থায় রয়েছে। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা উল্লেখযোগ্য মামলার মধ্যে রয়েছে—চট্টগ্রাম মহানগর কর্ণফুলী থানার নন-এফআইআর মামলা নং-০৫ (তারিখ: ০৭/০৯/২০২০), জিআর-২৭৮/২০২০, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন। কক্সবাজার সদর থানার এফআইআর নং-১৯ (৩০/১২/২০১৯), অস্ত্র আইন। একই থানার এফআইআর নং-১১৬ (৩০/১২/২০১৯), মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন। এছাড়াও ডাকাতি মামলায় দায়েরকৃত একাধিক মামলা বর্তমানে জেলা ও দায়রা জজ আদালত এবং অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় দায়ের করা মাদক মামলাসহ তার বিরুদ্ধে একটি অপহরণ ও চাঁদাবাজির মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, রাজনৈতিক প্রভাব ও দলীয় পরিচয়ের কারণে দিদারুল আলম দিদার দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছিল। তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ থাকলেও এতদিন তিনি আইনের আওতার বাইরে ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ জানায়, আটকের পর দিদারুল আলম দিদারকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার মাদক নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সহযোগীদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোতে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানায় পুলিশ। সব মিলিয়ে বিগত সরকারের আমলে দলীয় নেতার প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন নানা অপরাধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলো এই দিদার। শুধু তাই নয়, প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে বেপরোয়া ইয়াবা কারবার চালিয়ে আসছিলো ডাকাত দিদার হিসেবে পরিচিত শীর্ষ এই মাদক কারবারি।