তিন পদ খালি, ফখরুলের উত্তরসূরি নিয়ে আলোচনায় যারা

কক্সটিভি প্রতিবেদক বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই হচ্ছেন দলের রাষ্ট্রপতি পদের প্রার্থী। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরের পর জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেন। একই দিন নির্বাচন কমিশনে তার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়। সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় মির্জা ফখরুলই দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন, তা প্রায় নিশ্চিত। তবে তার প্রার্থিতা চূড়ান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দল ও সরকারের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদ কার্যত খালি হয়ে যাচ্ছে- দলের মহাসচিব, সরকারের স্থানীয় সরকারমন্ত্রী এবং তার সংসদীয় আসন ঠাকুরগাঁও-১। সূত্র বলছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগেই মন্ত্রী ও মহাসচিব- এই দুই পদ ছাড়তে পারেন মির্জা ফখরুল। আর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর সংসদ সচিবালয় তার আসন শূন্য ঘোষণা করবে, যেখানে পরে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। পদগুলো খালি হয়ে যাওয়ার এই পরিস্থিতিতে দলের ভেতরে এখন তুমুল আলোচনা চলছে- কে হতে পারেন মির্জা ফখরুলের উত্তরসূরি। বিশেষত দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদ মহাসচিবের ভবিষ্যৎ নিয়েই আলোচনা সবচেয়ে জোরালো। প্রায় ১৬ বছর ধরে বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্বে থাকা মির্জা ফখরুল ২০১১ সালে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হন এবং ২০১৬ সালে দলের জাতীয় কাউন্সিলে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পদে নিযুক্ত হন। খালেদা জিয়ার কারাবন্দিত্ব ও তারেক রহমানের লন্ডন নির্বাসনের পুরো সময়জুড়ে দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বে থাকা এই নেতা আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ছয়বার কারাগারে যান এবং নানামুখী নির্যাতন-প্রতিকূলতার মধ্যেও দলের নেতৃত্ব দিয়ে একজন গ্রহণযোগ্য রাজনীতিক হিসেবে পরিচিতি পান। রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মহাসচিব পদে তার সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দলের ভেতরে দুজনের নাম আলোচনায় সবচেয়ে বেশি উঠে আসছে- দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। বিএনপির অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, জাতীয় কাউন্সিলের আগে বা তাকে কেন্দ্র করে দলটি প্রাথমিকভাবে একজন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব নিয়োগ দিতে পারে, আর পরে জাতীয় কাউন্সিলে বা তার আশপাশের সময়ে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। যেহেতু রুহুল কবির রিজভী সংসদ নির্বাচন করেননি এবং তাকে মন্ত্রিসভাতেও রাখা হয়নি, তাই দলের দায়িত্বশীল নেতাদের কেউ কেউ মনে করছেন, মহাসচিব পদ শূন্য হলে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে তাকেই দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি। অন্যদিকে সালাহউদ্দিন আহমদের নামও আলোচনায় জোরালোভাবে আসছে, কারণ তিনি দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং বর্তমান সরকারে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন। মির্জা ফখরুল পদত্যাগ করলে তার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, নাকি বর্তমান মন্ত্রিসভা থেকেই কাউকে সেই দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। এদিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করা হয়েছে, ফলে প্রায় ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি পদে ভোটাভুটির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৮ আগস্ট, আর একাধিক প্রার্থী থাকলে ভোট হবে ২০ আগস্ট সংসদ ভবনে। সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। বর্তমান সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় এবং বিরোধী দলের সদস্যসংখ্যা মাত্র ৯০ হওয়ায় বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর জয় প্রায় নিশ্চিত। গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। বর্তমানে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এই পরিস্থিতিতে ফখরুলের সম্ভাব্য বিদায়ে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বে যে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে যাচ্ছে, তা নিয়ে আগামী দিনগুলোতে দলের অভ্যন্তরে আলোচনা আরও তীব্র হবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা